হজযাত্রীদের বিদায়ে পড়ুন তিন সুন্নতি দোয়া
হজযাত্রীদের বিদায়ে পড়ুন তিন সুন্নতি দোয়া

হজের সফর শুধু একটি ভ্রমণ নয়; এটি একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে পবিত্র ও আবেগঘন যাত্রা। প্রিয়জন যখন ইহরামের সাদা পোশাকে আল্লাহর ঘরের মেহমান হওয়ার উদ্দেশ্যে ঘর ছাড়েন, তখন বিদায়ের সেই মুহূর্তে হৃদয় ভরে ওঠে অদ্ভুত এক অনুভূতিতে— ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, আবেগ আর দোয়ার আকুতিতে। এই সময় শুধু আনুষ্ঠানিক বিদায় নয়; বরং তাদের জন্য আন্তরিক দোয়া করা, নিরাপত্তা কামনা করা এবং আল্লাহর দরবারে নিজেদের জন্যও দোয়ার আবেদন জানানো সুন্নত। নবীজি মুহাম্মদ (সা.) দূরের সফরে বের হওয়া ব্যক্তিকে বিদায় জানানোর সময় বিশেষ কিছু দোয়া শিখিয়েছেন, যা হজযাত্রীদের বিদায়ের মুহূর্তকে আরও বরকতময় ও অর্থবহ করে তোলে।

হজযাত্রীকে বিদায় জানানো: এক সুন্নতি আমল

কেউ দূরের সফরে বের হওয়ার সময় বিদায় জানানোর সময় তার জন্য দোয়া করা সুন্নত। হজের সফরে যারা বের হবেন, তারা তো আরও বেশি দোয়ার হকদার। তাদের কাছেও দোয়া চাইতে হবে, যেন তারা পবিত্র স্থানগুলোতে, দোয়া কবুলের জায়গাগুলোতে আমাদের জন্য দোয়া করেন। পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা ও হজ সুসম্পন্ন করতে পারার তৌফিকের জন্যও দোয়া করতে হবে।

হজযাত্রীদের বিদায় জানানোর সময় নবীজি (সা.) থেকে বর্ণিত নিম্নোক্ত তিনটি দোয়া পড়ুন

নবীজি (সা.) দূরের যে কোনো সফরের জন্য বিদায় জানানোর সময় এই দোয়াগুলো পড়তেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  1. আল্লাহর হেফাজতে সমর্পণের দোয়া
    আরবি: أَسْتَوْدِعُ اللَّهَ دِينَكَ وَأَمَانَتَكَ وَخَوَاتِيمَ عَمَلِكَ
    উচ্চারণ: ‘আসতাওদিউল্লাহা দ্বীনাকা ওয়া আমানাতাকা ওয়া খাওয়াতিমা আমালিকা।’
    অর্থ: ‘আমি আপনার দ্বীন, আমানত এবং আপনার শেষ আমল আল্লাহর কাছে সমর্পণ করলাম।’ (আবু দাউদ ২৬০০)
  2. সফর সহজ হওয়ার দোয়া
    আরবি: اللَّهُمَّ اطْوِ لَهُ الأَرْضَ وَهَوِّنْ عَلَيْهِ السَّفَرَ
    উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইতওয়ি লাহুল আরদা ওয়া হাওয়্যিন আলাইহিস সাফারা।’
    অর্থ: ‘হে আল্লাহ! তার পথের দূরত্ব কমিয়ে দিন এবং তার জন্য সফর সহজ করে দিন।’ (তিরমিজি ৩৪৪৫)
  3. তাকওয়া ও কল্যাণের দোয়া
    আরবি: زَوَّدَكَ اللَّهُ التَّقْوَى وَغَفَرَ ذَنْبَكَ وَيَسَّرَ لَكَ الْخَيْرَ حَيْثُمَا كُنْتَ
    উচ্চারণ: ‘যাওয়াদাকাল্লাহুত তাকওয়া ওয়া গাফারা জামবাকা ওয়া ইয়াসসারা লাকাল খাইরা হাইসুমা কুনতা।’
    অর্থ: ‘আল্লাহ আপনাকে তাকওয়ার পাথেয় দান করুন, আপনার গুনাহ মাফ করুন এবং আপনি যেখানেই থাকুন না কেন, আপনার জন্য কল্যাণ সহজ করে দিন।’ (তিরমিজি ৩৪৪৫)

নিজের ভাষায় হজযাত্রীর জন্য যেসব দোয়া করবেন

ওপরের দোয়াগুলোর পাশাপাশি হজযাত্রীর জন্য নিজের ভাষায় মনের গভীরতা থেকে দোয়া করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • হজ কবুল হওয়ার দোয়া: হে আল্লাহ! এই বান্দাকে আপনার ঘরের মেহমান হিসেবে কবুল করে নিন। তার হজকে ‘হজে মাবরুর’ বানান— যে হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছু নয়।
  • নিরাপদে ফিরে আসার দোয়া: হে আল্লাহ! এই হজযাত্রীকে সুস্থ, নিরাপদ ও প্রশান্ত মনে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিন। জলে, স্থলে ও আকাশপথে আপনি তার হেফাজত করুন।
  • গুনাহ মাফ ও নতুন জীবনের দোয়া: হে আল্লাহ! এই হজযাত্রী যেন হজ শেষে সদ্যোজাত শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে ঘরে ফেরেন। তার জীবনের সব গুনাহ ক্ষমা করুন এবং বাকি জীবন আপনার আনুগত্যে কাটানোর তৌফিক দান করুন।

হজযাত্রীর কাছে দোয়ার আবেদনও সুন্নত

হজযাত্রীর জন্য দোয়া করার পাশাপাশি তার কাছেও দোয়া চাইতে ভুলবেন না। কারণ তিনি আল্লাহর ঘরের মেহমান হিসেবে এমন সব পবিত্র স্থানে অবস্থান করবেন, যেখানে দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ সুযোগ রয়েছে। হজ বা ওমরাহযাত্রীকে বিদায় জানানোর সময় তার কাছে দোয়া চাওয়া নবীজি (সা.)-এর সুন্নত। হাদিসে এসেছে— ‘لَا تَنْسَنَا يَا أُخَيَّ مِنْ دُعَائِكَ’ অর্থ: ‘হে আমার ভাই! তোমার দোয়ায় আমাদের ভুলে যেয়ো না।’ (আবু দাউদ ১৪৯৮)

হজযাত্রীর বিদায়ের মুহূর্ত শুধু বিচ্ছেদের নয়, বরং দোয়া, ভালোবাসা ও ইমানি বন্ধনের এক অপূর্ব প্রকাশ। এই সময় আন্তরিক দোয়া যেমন হজযাত্রীর সফরকে বরকতময় করে, তেমনি দোয়া করার মানুষটির হৃদয়েও এনে দেয় প্রশান্তি ও সওয়াবের সুবাস। তাই প্রিয়জন যখন আল্লাহর ঘরের পথে রওনা হন, তখন চোখের জলের সঙ্গে তাদের জন্য তুলে দিন আন্তরিক দোয়ার হাত। হয়তো সেই পবিত্র ভূমিতে করা একটি দোয়াই বদলে দিতে পারে আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতের জীবন।