এপ্রিলের শেষে রাতের আকাশে লাইরিড উল্কাপাত ও গ্রহদের মিলনমেলা
এপ্রিলের শেষে আকাশে লাইরিড উল্কাপাত ও গ্রহদের অবস্থান

এপ্রিলের শেষে রাতের আকাশে মহাজাগতিক দৃশ্যের সমাহার

এপ্রিল মাসের প্রথমভাগে বাংলাদেশের আকাশে একাধিক গ্রহের কুচকাওয়াজ এবং পূর্ণিমার দৃশ্য উপভোগ করেছেন আকাশপ্রেমীরা। এখন সেই রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত রাতের আকাশ সাজবে নতুন মহাজাগতিক সাজে। বিশেষ করে এই সময়ে লাইরিড উল্কাপাত এবং গ্রহদের কক্ষপথের পরিবর্তন স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে, যা মহাকাশ পর্যবেক্ষণে আগ্রহীদের জন্য একটি অসাধারণ সুযোগ তৈরি করছে।

লাইরিড উল্কাপাত: এপ্রিলের আকাশের প্রধান আকর্ষণ

এপ্রিলের শেষার্ধের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো লাইরিড উল্কাপাত। প্রতিবছর এই সময়ে পৃথিবী যখন সি/১৮৬১ জি১ থ্যাচার নামের ধূমকেতুর ফেলে যাওয়া ধূলিকণার মেঘ অতিক্রম করে, তখনই এই চমৎকার দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। এই উল্কাপাত ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত চললেও সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাবে ২২ এপ্রিল রাত থেকে ২৩ এপ্রিল ভোর পর্যন্ত। আকাশ পরিষ্কার থাকলে প্রতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ২০টি উল্কা দেখা যেতে পারে, যা একটি মোহনীয় দৃশ্য তৈরি করবে। লাইরিড উল্কাগুলো বেশ উজ্জ্বল হয় এবং অনেক সময় দীর্ঘস্থায়ী আলোর রেখা রেখে যায়, যা দর্শকদের মুগ্ধ করবে।

গ্রহদের অবস্থান ও চাঁদের লুকোচুরি

এপ্রিলের শেষ দুই সপ্তাহে গ্রহগুলোর অবস্থানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটবে। এ সময় পশ্চিম আকাশে শুক্র গ্রহ তার উজ্জ্বলতা বজায় রাখলেও এটি ধীরে ধীরে দিগন্তের আরও নিচে নেমে যাবে। অন্যদিকে মঙ্গল গ্রহের লালচে আভা সন্ধ্যার আকাশে বেশ স্পষ্ট দেখা যাবে, যা মহাকাশ পর্যবেক্ষকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় বিষয়। এ মাসের শেষ দিকে সূর্যোদয়ের প্রায় দুই ঘণ্টা আগে পুব আকাশে শনি গ্রহ বেশ উঁচুতে অবস্থান করবে। শনির গ্রহের খুব কাছেই থাকবে বরফদানব নেপচুন; তবে এটি দেখার জন্য শক্তিশালী টেলিস্কোপের প্রয়োজন হবে, যা পেশাদার পর্যবেক্ষকদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং অভিজ্ঞতা হতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আজকের পর চাঁদ তার ক্ষীয়মাণ দশায় প্রবেশ করবে। ২১ এপ্রিলের দিকে চাঁদ যখন লাইরা নক্ষত্রপুঞ্জের কাছাকাছি থাকবে, তখন এর মৃদু আলো উল্কাপাত দেখার ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তবে এটি সামগ্রিক দৃশ্যের সৌন্দর্য কমাবে না, বরং একটি অনন্য পরিবেশ তৈরি করবে।

নক্ষত্রপুঞ্জের বিন্যাসে বিশেষ পরিবর্তন

এপ্রিলের শেষ দিকে বাংলাদেশের আকাশে নক্ষত্রপুঞ্জের বিন্যাসে এক বিশেষ পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। দক্ষিণ আকাশে এখন চারকোনা আকৃতির করভাস বা কাক নক্ষত্রপুঞ্জ নামের ছোট কিন্তু স্পষ্ট নক্ষত্রপুঞ্জটি দেখা যাবে, যা আকাশপ্রেমীদের জন্য একটি নতুন আবিষ্কার। এ সময় দক্ষিণ-পূর্ব আকাশে উজ্জ্বল নীলচে নক্ষত্র স্পাইকা এখন তার পূর্ণ মহিমায় জ্বলজ্বল করছে। এটি কন্যা রাশি নক্ষত্রপুঞ্জের অংশ, যা মহাকাশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করছে। উত্তর-পূর্ব আকাশে কমলা রঙের উজ্জ্বল আর্কটারাস নক্ষত্রটি এখন সহজেই চোখে পড়বে। এটি আকাশের চতুর্থ উজ্জ্বলতম নক্ষত্র এবং বসন্তের আকাশের অন্যতম প্রধান নির্দেশক, যা ঋতু পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

এই মহাজাগতিক ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করতে আকাশপ্রেমীরা রাতের বেলা উন্মুক্ত স্থানে অবস্থান নিতে পারেন এবং দূরবীন বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করে আরও স্পষ্ট দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন। সূত্র হিসেবে স্কাইম্যাপ অনলাইন, স্কাই অ্যান্ড টেলিস্কোপ, এবং অ্যাস্ট্রোনমি ম্যাগাজিনের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে, যা এই ঘটনাগুলোর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদান করে।