যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সরাসরি আলোচনা আবারও ব্যর্থ, দায় ইরানের ওপর
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ মেটানোর জন্য সরাসরি আলোচনার প্রচেষ্টা আবারও ব্যর্থ হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ২১ ঘণ্টার 'ফলপ্রসূ আলোচনা' শেষে দুই দেশ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। এই ব্যর্থতার দায় ইরানের ওপর চাপিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের বক্তব্য
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার (১২ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানের আলোচকরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শর্তগুলো মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। যদিও তিনি দাবি করেন সেগুলো 'খুবই নমনীয়' ছিল। ভ্যান্স বলেন, 'আমরা যথেষ্ট সহনশীল ছিলাম। প্রেসিডেন্ট আমাদের বলেছিলেন তোমাদের সেখানে সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে যেতে হবে এবং একটি চুক্তি করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। আমরা তা-ই করেছি, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কোনো অগ্রগতি করতে পারিনি।'
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অনীহা
এসময় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দেন, মূল সমস্যাটি ছিল ইরানের তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগে অনীহা। তার ভাষায়, 'আমরা এখানে থেকে যাচ্ছি একটি খুব সহজ প্রস্তাব নিয়ে—একটি বোঝাপড়ার উপায়, যা আমাদের চূড়ান্ত এবং সর্বোত্তম প্রস্তাব। দেখা যাক, ইরানিরা এটি গ্রহণ করে কিনা।' এই মন্তব্যে ইরানের অবস্থানের প্রতি মার্কিন হতাশা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
আলোচনার প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ
এই আলোচনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ এটি দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা হ্রাসের একটি সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে ব্যর্থতা আবারও অচলাবস্থা তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ব্যর্থতা ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপের দিকে নিয়ে যেতে পারে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতা সত্ত্বেও ফলাফল না আসায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।



