মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ড্রোন হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের সহায়তা চেয়েছে
ইরানের ড্রোন হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের সহায়তা চাইল

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ড্রোন হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের সহায়তা চেয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ড্রোন হামলা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের কাছ থেকে সহায়তা চেয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ সহায়তা দেওয়ার জন্য তিনি ইতোমধ্যে নির্দেশ দিয়েছেন। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে এই তথ্য উঠে এসেছে।

ইউক্রেনের ড্রোন ইন্টারসেপ্টর প্রযুক্তি

রাশিয়ার সঙ্গে গত চার বছরের যুদ্ধে ইউক্রেন বেশ কিছু সস্তা ও কার্যকর ‘ড্রোন ইন্টারসেপ্টর’ তৈরি করেছে। এই প্রযুক্তি মাঝ-আকাশেই শত্রুর ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম এবং বিশ্বে বর্তমানে শীর্ষস্থানে রয়েছে বলে দাবি করেছে কিয়েভ। গত মঙ্গলবার জেলেনস্কি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকে একটি প্রস্তাব দেন। তিনি জানান, আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপনাস্ত্রের বিনিময়ে ইউক্রেন তার মিত্রদের এই ইন্টারসেপ্টরগুলো দিতে পারে, যা ইরানি ড্রোন হামলা থেকে তাদের আরও ভালো সুরক্ষা দেবে।

শাহেদ ড্রোনের ব্যবহার

জেলেনস্কি এক্স-এ বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যকে ‘শাহেদ’ ড্রোন থেকে সুরক্ষা দিতে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের থেকে সহায়তা চেয়েছে।’ উল্লেখ্য, ইরান নির্মিত এই ‘শাহেদ’ ড্রোন বর্তমানে রাশিয়াও ব্যবহার করছে। ইউক্রেন প্রায় প্রতিদিনই রাশিয়ার এই ড্রোন হামলার শিকার হচ্ছে। এসব ড্রোন দেশটির আবাসিক এলাকা, বেসামরিক অবকাঠামো এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়। জেলেনস্কি আরও বলেন, ‘প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ এবং ইউক্রেনীয় বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে আমি নির্দেশ দিয়েছি, যাতে কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ট্রাম্পের সমালোচনা

ওয়াশিংটনের এই অনুরোধ সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার জেলেনস্কির সমালোচনা করেছেন। এক বছর আগে হোয়াইট হাউসে তাদের মধ্যে যে টানাপোড়েন দেখা গিয়েছিল, ট্রাম্প আবারও সেই সুরেই কথা বললেন। তিনি অভিযোগ করেন, জেলেনস্কি ইউক্রেনে শান্তি স্থাপনের প্রচেষ্টায় বাধা দিচ্ছেন। ‘পলিটিকো’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘জেলেনস্কিকে এ বিষয়ে তৎপর হতে হবে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে।’ ট্রাম্পের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘এটা অভাবনীয় যে তিনি (জেলেনস্কি) এখন বাধার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। আপনার হাতে কোনো কার্ড (সুযোগ) নেই। এখন তো আপনার হাতে সুযোগ আরও কমে গেছে।’

ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম দিনেই ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে তিনি বলেন, রাশিয়ার ক্রমাগত হামলার মুখে লক্ষ্যটি অর্জন করা কঠিন। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ইউক্রেনের সহায়তা চাওয়া এবং ট্রাম্পের সমালোচনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।