ইউরোপীয় ইউনিয়নের বক্তব্যে ইরানের তীব্র প্রতিক্রিয়া: 'ভণ্ডামি বন্ধ করুন'
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ভন ডের লেয়েনের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইরানের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ভন ডের লেয়েন বলেছেন, 'ইরানের জনগণ স্বাধীনতা, মর্যাদা এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার পাওয়ার যোগ্য।' এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই স্পষ্ট ভাষায় জবাব দিয়েছেন।
এসমাইল বাঘাইয়ের কঠোর প্রতিক্রিয়া
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি ভিডিও শেয়ার করে বাঘাই বলেন, 'দয়া করে এই ভণ্ডামি বন্ধ করুন।' তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'দখলদারিত্ব, গণহত্যা ও নৃশংসতার অনুমোদন দিয়ে— ইতিহাসের ভুল পাশে দাঁড়িয়েই আপনি আপনার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়েছেন।' বাঘাইয়ের মতে, ভন ডের লেয়েন এখন ইরানিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন ও যুদ্ধাপরাধকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীরবতার অভিযোগ
বাঘাই অভিযোগ করেন যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতৃত্ব 'আইনহীনতা ও নৃশংসতার মুখে নীরব থেকেছে'। তিনি মনে করেন, এমন কর্মকাণ্ড নৃশংসতার সঙ্গে জড়িত থাকারই শামিল। বাঘাই প্রশ্ন তোলেন, 'মিনাব শহরে যখন ১৬৫ জনের বেশি নিরীহ ইরানি শিশু নির্মমভাবে নিহত হলো, তখন আপনার কণ্ঠ কোথায় ছিল?'
তিনি আরও যোগ করেন, 'হাসপাতাল, ঐতিহাসিক স্থাপনা, তেল স্থাপনা, কূটনৈতিক পুলিশ সদরদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এবং আবাসিক এলাকাগুলোকে যখন দুষ্কৃতিমূলকভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, তখন আপনি কেন কিছু বলেন না?' এই প্রশ্নগুলোর মাধ্যমে বাঘাই ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করেছেন।
আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে উত্তেজনা
এই বিতর্ক আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। ভন ডের লেয়েনের বক্তব্য ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ইরানের কর্তৃপক্ষের কাছে অগ্রহণযোগ্য। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পক্ষে তাদের অবস্থান জানাতে চায়।
এই ঘটনা ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনারই প্রতিফলন। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাঘাইয়ের এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের বাক্যবাণ আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া দেখায় যে তারা কোনো প্রকার সমালোচনা সহজে মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। ভন ডের লেয়েনের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের এই জবাব আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।



