কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু, মর্গে স্বজনের মর্মন্তুদ আহাজারি
কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত, মর্গে আহাজারি

কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু, মর্গে স্বজনের মর্মন্তুদ আহাজারি

কুষ্টিয়া জেলায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার বিকেলে কুষ্টিয়া বাইপাস সড়কে একটি গ্যাসবাহী লরির সঙ্গে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে তিনজন মারা যান এবং আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া আরও দুজন চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও মৃত্যুবরণ করেন।

দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, আজ বেলা দেড়টার দিকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা কুষ্টিয়া বাইপাস সড়ক ধরে বটতৈল এলাকার দিকে যাচ্ছিল। একই সময়ে বিপরীত দিক থেকে একটি গ্যাসবাহী লরি পাবনার দিকে যাত্রা করছিল। হঠাৎ করে কুষ্টিয়া স্টোর পাম্পের সামনে অটোরিকশার চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে অটোরিকশাটি উল্টে গিয়ে লরির সঙ্গে সরাসরি ধাক্কা লাগে এবং যানটি সম্পূর্ণরূপে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

দুর্ঘটনায় অটোরিকশায় থাকা পাঁচজনই গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। বাকি দুজনকে দ্রুত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিহতদের পরিচয় ও পারিবারিক ট্র্যাজেডি

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাজানগর গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের দুই স্ত্রী আমেনা খাতুন (৭৫ বছর) ও কমেলা খাতুন (৭০ বছর)। এছাড়াও আমেনা খাতুনের জামাতা রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চক রাজাপুর গ্রামের জাকারিয়া এবং খাজানগর এলাকার আশরাফুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী শিরিন খাতুন এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।

আমেনা খাতুনের এক স্বজন জানান, রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় জাকারিয়ার মেয়ের বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন করে তারা ফেরার পথে ছিলেন। জাকারিয়া নিজেই সিএনজি চালিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে খাজানগর ফিরছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত পথেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে, যা পুরো পরিবারকে শোকে মুহ্যমান করে তুলেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মর্গে স্বজনের করুণ দৃশ্য ও প্রশাসনের পদক্ষেপ

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে যান নিহতদের স্বজনরা। সেখানে তাদের মর্মন্তুদ আহাজারি ও শোক প্রকাশ করতে দেখা গেছে। জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেনও মর্গে গিয়ে নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের সাথে দেখা করেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন।

স্বজনদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে, চৌড়হাস হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জয়দেব জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত গ্যাসবাহী লরিটি জব্দ করা হয়েছে। তবে লরির চালক ও সহকারী দুর্ঘটনার পরপরই পালিয়ে গেছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

এই ঘটনা কুষ্টিয়া এলাকায় আবারও সড়ক নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে।