চীনা গুপ্তচর স্যাটেলাইট ব্যবহার করে মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করছে ইরান: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস
চীনা স্যাটেলাইট দিয়ে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করছে ইরান

চীনা গুপ্তচর স্যাটেলাইট ব্যবহার করে মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করছে ইরান: ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন

ইরান চীনের একটি গুপ্তচর স্যাটেলাইট ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে বলে দাবি করা হয়েছে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের বুধবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের শেষের দিকে ইরান গোপনে চীনের টিইই নামের একটি স্যাটেলাইট সংগ্রহ করেছে, যা ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্সের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মার্কিন ঘাঁটি পর্যবেক্ষণ

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানি সামরিক কমান্ডাররা এই স্যাটেলাইটটিকে প্রধান প্রধান মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সময় অনুযায়ী স্থানাঙ্ক তালিকা, স্যাটেলাইটের ছবি এবং কক্ষপথ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমস বলছে, মার্চ মাসে ড্রোন ও মিসাইল হামলার আগে ও পরে ওই স্থানগুলোর ছবি তোলা হয়েছিল।

চুক্তির অংশ হিসাবে আইআরজিসি বেইজিংভিত্তিক স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণ এবং ডেটা পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এমপোস্যাটের বাণিজ্যিক গ্রাউন্ড স্টেশনগুলোয় প্রবেশের সুযোগ পায়। এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও অন্যান্য অঞ্চলে এই প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চীনের তীব্র প্রত্যাখ্যান

তবে বুধবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই প্রতিবেদনটি অস্বীকার করে একে ‘ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছে। রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, ‘সম্প্রতি কিছু পক্ষ গুজব তৈরি করতে এবং সেগুলোর সঙ্গে চীনের নাম জড়িয়ে দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। দুষ্টু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এ ধরনের অপপ্রচারের তীব্র বিরোধিতা করে চীন।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ওয়াশিংটনে নিযুক্ত চীনা দূতাবাস সংবাদপত্রটিকে বলেছে, ‘আমরা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো থেকে চীনের বিরুদ্ধে অনুমাননির্ভর এবং ইঙ্গিতমূলক অপপ্রচার চালানোর তীব্র বিরোধিতা করি।’

মার্কিন ঘাঁটিগুলোর উপর নজরদারি

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৩, ১৪ ও ১৫ মার্চ সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির ছবি তুলেছিল ওই স্যাটেলাইট। ১৪ মার্চ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিশ্চিত করেছিলেন ওই ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো হামলার শিকার হয়েছে। এছাড়া জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটি, বাহরাইনের মানামায় অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের কাছের এলাকা এবং ইরাকের এরবিল বিমানবন্দরে আইআরজিসির হামলার কাছাকাছি সময়ে ওই স্যাটেলাইট সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণ করেছিল।

মার্কিন প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

রয়টার্স স্বতন্ত্রভাবে এই প্রতিবেদনের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। হোয়াইট হাউজ, সিআইএ এবং পেন্টাগন এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া দেয়নি। আর্থ আই কোম্পানি এবং এমপোস্যাটও কোনো মন্তব্য করেনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমপোস্যাট এবং আইআরজিসির মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে হোয়াইট হাউজ কোনো মন্তব্য না করলেও একজন মুখপাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গত সপ্তাহের মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, চীন যদি ইরানকে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহ করে তবে তাদের ‘বড় ধরনের সমস্যায়’ পড়তে হবে।

পটভূমি: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা

উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথ বোমা হামলার অভিযানের জবাবে ইরান পালটা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। দুই সপ্তাহের সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে চীনা স্যাটেলাইট ব্যবহারের দাবি আন্তর্জাতিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনটি ইরানি সামরিক নথি ফাঁসের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যা বর্তমান বৈশ্বিক জিওপলিটিকাল টেনশনকে আরও জটিল করে তুলছে। চীনের দ্রুত প্রত্যাখ্যান সত্ত্বেও, এই অভিযোগগুলি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত প্রতিযোগিতার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।