কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশে রাতের আকাশে হঠাৎ দেখা মিলেছে এক রহস্যময় আলোর। গত মঙ্গলবার রাতে আকাশে ভাসতে থাকা অদ্ভুত আকৃতির বিশালাকার আলো দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে রীতিমতো আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয় সেই দৃশ্য, যা নিয়ে শুরু হয় নানা জল্পনা-কল্পনা। অনেকেই এটিকে ভিনগ্রহের কোনো মহাকাশযান বা ইউএফও বলে দাবি করেন।
ঘটনার বিবরণ
নিউইয়র্ক পোস্ট–এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত সোয়া ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার উইলিয়ামস লেক, প্রিন্স জর্জ এবং ফোর্ট সেন্ট জন এলাকায় এই অদ্ভুত আলো দেখা গিয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বড় আকারের মেঘের মতো একটি ধোঁয়াটে ও উজ্জ্বল আলো দিগন্তজুড়ে নিঃশব্দে ভেসে যাচ্ছিল। কিছুক্ষণ পর তা ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়। ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উজ্জ্বল এ বস্তুটি অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত গতিতে একদিক থেকে অন্যদিকে যাচ্ছিল।
বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা
ঘটনার পরদিনই রহস্যের জট খুলে দেন বিশেষজ্ঞরা। প্রিন্স জর্জ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেটরির গবেষক মালহার কেন্দুরকার বলেন, এটি আসলে ইলন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটের কারণে সৃষ্ট ‘জেলিফিশ ইফেক্ট’। ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যান্ডেনবার্গ স্পেস ফোর্স বেজ থেকে রাত ৯টার দিকে ওই রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল।
জেলিফিশ ইফেক্ট কী?
রকেট যখন বায়ুমণ্ডলের অনেক ওপরের স্তরে পৌঁছায়, তখন এর ইঞ্জিন থেকে বের হওয়া গ্যাস বায়ুশূন্য স্থানে বিশাল মেঘের মতো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। সূর্যাস্তের পর মাটিতে অন্ধকার নেমে এলেও আকাশপথের ওই উচ্চতায় তখনো সূর্যের আলো থাকে। সেই আলো যখন রকেটের ছড়িয়ে পড়া গ্যাসের ওপর প্রতিফলিত হয়, তখন তা অন্ধকারে অনেকটা উজ্জ্বল জেলফিশ বা মোচার মতো দেখায়। এটিকেই বলা হয় জেলিফিশ ইফেক্ট।
প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন। বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক, কানাডা, বিচিত্র খবর।



