অনলাইন জুয়ায় আসক্ত শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক আত্মহত্যা: কলাবাগানে ট্র্যাজেডি
রাজধানীর কলাবাগানে এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অনলাইনে জুয়ায় আসক্ত এই তরুণ মায়ের সঙ্গে টাকা নিয়ে রাগারাগির পর ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মঘাতী হন। ঘটনায় স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
রোববার দিবাগত রাতে কলাবাগানের ইস্টার্ন পান্থছায়া নামের একটি বহুতল ভবনে এ ঘটনা ঘটে। মো. ফয়সাল মাহমুদ (২১) নামের ওই শিক্ষার্থী নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের একটি কারিগরি কলেজে পড়াশোনা করতেন। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ফয়সাল দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ার প্রতি আসক্ত ছিলেন এবং প্রতিদিন মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে জুয়া খেলতেন।
কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক শামসুল হক সুমন ঘটনার প্রাথমিক তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ পাশের ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফয়সালের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, গত শনিবার রাতে ফয়সাল মায়ের কাছে টাকা চাইলে তিনি দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ঘরে তীব্র রাগারাগি হয়। পরদিন রোববার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ফয়সাল মাকে ঘরে আটকে রেখে জোর করে টাকা দাবি করেন। টাকা না পেয়ে তিনি মারতে উদ্যত হলে, মা আয়েশা হক ভবনের সমিতির লোকজনের সহায়তা চান। তারা এসে তাকে উদ্ধার করেন।
এরপর ফয়সাল নিজের কক্ষে ফিরে যান এবং আগে থেকে খোলা থাকা জানালার গ্রিল দিয়ে ১৩ তলা থেকে লাফ দেন। তিনি পাশের ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদে পড়ে গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। এই ঘটনা অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ পরিণতির একটি করুণ উদাহরণ হয়ে রইল।
পরিবার এবং ব্যক্তিগত তথ্য
ফয়সালের পারিবারিক ঠিকানা চাঁদপুর সদর উপজেলার জোড়া পুকুরপাড় এলাকায়। তিনি মৃত এ কে এম মাহমুদুল হকের ছেলে। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে তিনি কলাবাগানের ওই ভবনের ১৩ তলার একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। এই দুর্ঘটনা পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের উপর গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।
পুলিশ এখন ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার গুরুত্ব আবারও প্রমাণিত হলো।



