অ্যাজমা বা হাঁপানি মানেই কি শুধু শ্বাসকষ্ট আর বুক দিয়ে বাঁশির মতো শব্দ হওয়া? চিকিৎসকরা বলছেন, ধারণাটি সম্পূর্ণ ঠিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট ছাড়াই অ্যাজমা শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। সঠিক লক্ষণের অভাবে অধিকাংশ মানুষ একে সাধারণ কাশি বা অ্যালার্জি মনে করে ভুল করেন, যা পরে বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা অ্যাজমার এমন কিছু অপ্রচলিত লক্ষণ তুলে ধরেছেন যা আমাদের চোখ এড়িয়ে যায়।
শুকনো কাশি যখন সংকেত
অ্যাজমার সবচেয়ে বড় লুকানো লক্ষণ হলো দীর্ঘস্থায়ী শুকনো কাশি। বিশেষ করে যদি কাশিটি রাতে বা ভোরের দিকে বেড়ে যায়, তবে এটি সাধারণ কোনো ঠান্ডা লাগা নয় বরং অ্যাজমার লক্ষণ হতে পারে।
হাসি বা কথায় বাড়ে কাশি
অনেকের হাসি দিলে, জোরে কথা বললে কিংবা ঠান্ডা বাতাসের সংস্পর্শে এলে কাশি শুরু হয়। এটি নির্দেশ করে যে আপনার শ্বাসনালী অত্যন্ত সংবেদনশীল। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একেই অ্যাজমার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে গণ্য করা হয়।
বুকে অদৃশ্য চাপ বা অস্বস্তি
সবসময় শ্বাসকষ্ট হবে এমন নয়; অনেক রোগী অভিযোগ করেন তাদের বুক ভারী হয়ে আছে বা তারা প্রাণভরে নিঃশ্বাস নিতে পারছেন না। যদি হাঁটার সময় বা সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় বুকে চাপ অনুভব করেন, তবে আজই সতর্ক হোন।
শিশুদের ক্লান্তি ও অলসতা
শিশুরা অ্যাজমার কথা মুখে বলতে পারে না। অনেক সময় দেখা যায় শিশুটি আগের মতো খেলাধুলা করছে না বা দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ছে। অভিভাবকরা একে সাধারণ দুর্বলতা মনে করলেও এটি আসলে 'লুকানো অ্যাজমা' হতে পারে।
শুধুই কাশি বা 'কাফ ভ্যারিয়েন্ট অ্যাজমা'
এক ধরনের অ্যাজমা আছে যাতে শ্বাসকষ্টের কোনো ছিটেফোঁটাও থাকে না, শুধু কাশিই একমাত্র লক্ষণ। একে বলা হয় 'কাফ ভ্যারিয়েন্ট অ্যাজমা'। সঠিক রোগ নির্ণয় না করে এই ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে কোনো কাজ হয় না।
কখন পরীক্ষা করাবেন?
যদি পারফিউমের কড়া গন্ধ, ধুলোবালি বা আবহাওয়া পরিবর্তনে আপনার বারবার কাশি হয়, তবে দেরি না করে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। একটি সাধারণ 'স্পাইরোমেট্রি' পরীক্ষার মাধ্যমেই রোগটি ধরা সম্ভব। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে অ্যাজমা নিয়েও স্বাভাবিক জীবন কাটানো সম্ভব।



