ফরিদপুরে প্রবাসী হত্যা মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশে নিন্দা পরিবারের
ফরিদপুরে প্রবাসী হত্যা মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশে ক্ষোভ

ফরিদপুরে পাঁচ বছর আগে এক ইতালি প্রবাসীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলা রাজনৈতিক মামলা হিসেবে উল্লেখ করে প্রত্যাহারের সুপারিশ পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের অভিযোগ

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিহত মাসুদ রানা (৪৫)-এর পরিবারের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহতের মা হালিমা বেগমের পক্ষে তার ছোট ছেলে আসাদুজ্জামান। এ সময় পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ

পরিবারের দাবি, মামলাটি বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের তদবিরের মাধ্যমে এটিকে ‘রাজনৈতিক মামলা’ হিসেবে প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে। তারা বলেন, এটি হত্যা মামলা হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক মামলার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার বিবরণ

পরিবার জানায়, ২০২১ সালের ১৩ এপ্রিল ভাঙ্গা উপজেলার নওপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মাসুদ রানা ছুরিকাঘাতে নিহত হন। এ ঘটনায় ১৫ এপ্রিল ৩৫ জনকে আসামি করে ভাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং বর্তমানে মামলাটি ফরিদপুর অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সম্প্রতি মামলাটি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক দাবি করে প্রত্যাহারের জন্য একটি আবেদন করা হয় এবং পরে জেলা পর্যায়ের যাচাই-বাছাই কমিটি তা সুপারিশ আকারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়।

পরিবারের বক্তব্য

নিহতের মা হালিমা বেগম বলেন, “আমার ছেলে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিল না। তাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই মামলা কীভাবে রাজনৈতিক হয়? আমি জীবিত থাকতে আমার ছেলের ন্যায্য বিচার চাই।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিহতের ভাই আসাদুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, “হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতরা প্রভাব খাটিয়ে মামলা প্রত্যাহারের চেষ্টা করছে। প্রকৃত আসামিদের রক্ষা করতেই এ ধরনের সুপারিশ করা হয়েছে।”

বিপক্ষের বক্তব্য

অপরদিকে, সুপারিশের আবেদনকারী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদারেরছ আলী ইছা বলেন, “আবেদনের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই সুপারিশ করা হয়েছে।”

যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিন্টু বিশ্বাস বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেই সুপারিশ করা হয়েছে। পরিবার চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আপত্তি জানাতে পারে, তখন পুনরায় তদন্ত হতে পারে।”

পরিবারের দাবি

পরিবারের দাবি, মামলাটি পুনরায় তদন্ত করে প্রকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা হোক।