হাইকোর্টে রিট: হামে ৪৭ শিশুর মৃত্যু তদন্তে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের দাবি
হামে শিশুমৃত্যু: হাইকোর্টে রিট, তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি

হামে শিশুমৃত্যু তদন্তে হাইকোর্টে রিট দায়ের

হামে ৪৭ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন এবং প্রাদুর্ভাব কমা পর্যন্ত স্কুল সাময়িক বন্ধের দাবিতে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী লুৎফ জাহান পূর্ণিমা বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করে এই রিটটি দায়ের করেন।

রিটে উত্থাপিত প্রধান দাবিসমূহ

রিট পিটিশনে হামে শিশুমৃত্যুর ঘটনা তদন্ত এবং আদালতে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। এই প্রতিবেদনে নিহতদের সংখ্যা, সংক্রমণের মাত্রা, টিকাদান কভারেজ, টিকার প্রাপ্যতা এবং গৃহীত ব্যবস্থাসমূহের বিস্তারিত বর্ণনা থাকতে হবে।

রিটে আরও দাবি করা হয়েছে:

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • টিকাদান কভারেজ নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা, টিকার ঘাটতি এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় বিলম্বের অভিযোগে পূর্ণাঙ্গ, স্বাধীন ও সময়সীমাবদ্ধ তদন্ত পরিচালনা
  • সময়মতো টিকাদান ব্যবস্থা গ্রহণ না করার কারণ ব্যাখ্যা এবং তদন্ত ফলাফল আদালতে জমা দেওয়া
  • জাতীয় জরুরি হাম টিকাদান কর্মসূচি চালু এবং পর্যাপ্ত টিকা, সিরিঞ্জ ও সংশ্লিষ্ট লজিস্টিক সরবরাহ নিশ্চিত করা

সংবিধানের ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ

রিটে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা, টিকার ঘাটতি, অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা এবং জরুরি প্রতিক্রিয়ায় বিলম্ব সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩২ ধারা লঙ্ঘনের শামিল। আইনজীবী পূর্ণিমা যুক্তি দেখিয়েছেন যে, চলমান প্রাদুর্ভাব সত্ত্বেও স্কুলগুলোতে কন্টাক্ট ট্রেসিংসহ তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতা অবহেলা প্রতিফলিত করে এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রিট পিটিশনে আরও জোর দেওয়া হয়েছে যে, শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে এই ব্যর্থতা মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনছে। আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করে পিটিশনে জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিকারের জন্য সুপারিশ

রিটে প্রস্তাবিত ব্যবস্থাসমূহের মধ্যে রয়েছে স্কুলগুলোতে কঠোর নজরদারি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। এছাড়াও, টিকাদান কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি অনলাইন মনিটরিং সিস্টেম চালুর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এই রিটের মাধ্যমে শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে আইনজীবী পূর্ণিমা মন্তব্য করেছেন। আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা এই মামলাটি জনস্বাস্থ্য নীতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।