কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সংকট, স্থানীয়রা স্বাস্থ্যসেবায় বিড়ম্বনায়
মনোহরগঞ্জে কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সংকট, স্থানীয়রা দুর্ভোগে

মনোহরগঞ্জে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলিতে ওষুধ সংকট, স্থানীয়রা স্বাস্থ্যসেবায় চরম দুর্ভোগে

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলিতে গত প্রায় ছয় মাস ধরে তীব্র ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকটের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজ নিজ এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা নিতে গিয়ে চরম বিড়ম্বনার সম্মুখীন হচ্ছেন। ওষুধ না পেয়ে অনেক সেবাপ্রার্থীকে এখন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটতে হচ্ছে, যা সময় ও অর্থ উভয়েরই অপচয় ঘটাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ও দুর্ভোগ

উপজেলার বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিক এলাকার অন্তত দশজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, গত প্রায় ছয় মাস ধরে তারা এই সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন। সরকারি এসব ক্লিনিক থেকে ওষুধ না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে সেবা-প্রার্থীদের। অনেকেই আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে পারছেন না, ফলে তাদের স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ঝলম (দঃ) ইউনিয়নের নরহরিপুরের বাসিন্দা সাফায়েত হোসেন বলেন, "এলাকার কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ না থাকায় প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হয়। এতে আর্থিক কষ্টসহ নানা বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই সংকটের প্রভাব সরাসরি গ্রামের নিরীহ, অসহায় ও গরীব মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় পড়ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কমিউনিটি ক্লিনিকের বর্তমান অবস্থা

মনোহরগঞ্জ উপজেলায় মোট ১১টি ইউনিয়নে ২১টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে, যেখান থেকে গ্রামের মানুষরা সাধারণত বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকেন। রোগীদের সুবিধার্থে প্রায় বাইশ প্রকার ওষুধ এখানে সরবরাহ করা হয়। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে ওষুধের সরবরাহ বন্ধ থাকায় এই ক্লিনিকগুলিতে সংকট তৈরি হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উপজেলার সিএইচসিপি এসোসিয়েশন সভাপতি ও মনিপুর কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার কাজী আবু মঞ্জুর বলেন, "ওষুধ সংকট এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে। সর্বশেষ গত বছরের আগস্ট মাসে ৪ কার্টন ওষুধ পেয়েছি, এরপর আর কোনো ওষুধ পাওয়া যায়নি।" তিনি আরও যোগ করেন যে, বর্তমানে ক্লিনিকগুলিতে শুধুমাত্র কাউন্সিলিং ও প্রাথমিক পরামর্শের মধ্যেই স্বাস্থ্যসেবা সীমাবদ্ধ রয়েছে। গর্ভবতী রোগীসহ অন্যান্য সেবাপ্রার্থীদের প্রায়শই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হচ্ছে।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত স্টোরকিপার মো. আবুল বাশার জানান, গত ছয় মাস ধরে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে, যা কমিউনিটি ক্লিনিকগুলিতে ওষুধ বিতরণে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি প্রাপ্তি সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকগুলিতে ওষুধ বিতরণের আশ্বাস দিয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. প্রিয়াংকা চক্রবর্তী এই সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, "পর্যাপ্ত সরবরাহ সংকটের কারণে রোগীদের সেবা প্রদানে সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, সংকট নিরসনের জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে একাধিকবার চিঠি দিয়ে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। ওষুধ ছাড়াও অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রীর চাহিদা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে, কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলিতে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন, যাতে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যায়।