পিরিয়ড মিস হওয়ার আগেই গর্ভধারণের ১২ লক্ষণ
পিরিয়ড মিস হওয়ার আগেই গর্ভধারণের ১২ লক্ষণ

পিরিয়ড মিস হওয়ার আগেই গর্ভধারণের ১২টি লক্ষণ

পিরিয়ড মিস হওয়ার আগেই কীভাবে বুঝবেন যে আপনি গর্ভবতী? এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ডা. তাসনিম জারা। বিশেষ করে যাদের মাসিক অনিয়মিত হয় তারা এটা জানতে চান। এ সম্পর্কে ১২টা শারীরিক পরিবর্তনের কথা বলেছেন তিনি। যার মাধ্যমে পিরিয়ড মিস হওয়ার আগেই কিছু ক্ষেত্রে গর্ভধারণের একদম প্রথম সপ্তাহ থেকেই বুঝা যাবে কেউ গর্ভবতী কিনা।

১. যোনি পথ দিয়ে হালকা রক্তপাত

গর্ভধারণের ছয় থেকে ১২ দিনের মধ্যে সাধারণত এমনটা হয়। নারীদের ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণু পরিপক্ক হয়, তারপর ডিম্বনালীতে গিয়ে শুক্রাণুর সঙ্গে মিলিত হয়। ভ্রূণ জরায়ুতে পৌঁছে নিজেকে গেঁথে নেয়, যার ফলে হালকা রক্তপাত হতে পারে। একে ইমপ্লান্টেশন ব্লিডিং বলে। মাসিকের রক্তের সঙ্গে এর পার্থক্য হলো: রঙ হালকা গোলাপি বা বাদামি, পরিমাণ অল্প এবং চাকা চাকা রক্ত যায় না। তবে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে মাত্র ২৫ জনের এই লক্ষণ দেখা দেয়।

২. স্তনে ভারীভাব ও ব্যথা

গর্ভধারণের প্রথম এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে স্তনে হালকা ব্যথা অনুভব হতে পারে। স্তন ফোলা, বড় দেখা দেওয়া, বোটায় শিরশির বা ঝিম ধরার অনুভূতি হতে পারে। ব্রা বা ব্লাউজ পরতে ব্যথা লাগতে পারে। হরমোনের পরিবর্তনের কারণে এমন হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

৩. ঘন ঘন প্রস্রাব

গর্ভধারণের পরপরই ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ আসতে পারে। হরমোনের প্রভাবে তলপেট ও কিডনিতে রক্ত চলাচল বেড়ে যায়। তবে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা ব্যথা থাকলে ইনফেকশন হতে পারে, তাই ডাক্তার দেখানো জরুরি।

৪. পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি

হরমোনের পরিবর্তনের কারণে পেট ফোলা ফোলা বা ফাঁপা মনে হতে পারে। অনেকের মনে হয় পেটে গ্যাস জমেছে। কোমরের কাপড় টাইট লাগতে পারে।

৫. মুড সুইং

গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে মেজাজ দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে। হঠাৎ ভালো লাগা, খারাপ লাগা বা কান্না পেতে পারে। হরমোনের পরিবর্তনের কারণেই এমন হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

৬. বমি বমি ভাব ও বমি

২০২১ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ডিম্বাণু নিষিক্ত হওয়ার আট দিনের মধ্যেই বমি ভাব দেখা দিতে পারে। ওজন বেশি হলে আগে, বয়স বেশি হলে দেরিতে লক্ষণ প্রকাশ পায়। যেমন, ২১ বছর বয়সীদের ১৪তম দিনে, ৩৩ বছর বয়সীদের ১৮তম দিনে লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

৭. স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ক্লান্তি

গর্ভধারণের এক সপ্তাহের মধ্যেই ক্লান্তি অনুভব হতে পারে। প্রজেস্টেরন হরমোনের কারণে এমন হতে পারে। প্রথম তিন মাস পর ক্লান্তি কমে, মাঝের তিন মাসে এনার্জি বাড়ে, শেষের তিন মাসে আবার ক্লান্তি ফিরে আসে।

৮. মুখের স্বাদ পাল্টে যাওয়া

গর্ভাবস্থায় নোনতা খাবার বেশি ভালো লাগতে পারে, তেতো খাবার কম পছন্দ হতে পারে। অনেকের মুখে ধাতব স্বাদ অনুভূত হতে পারে।

৯. প্রখর ঘ্রাণ শক্তি

গন্ধ শক্তি বেড়ে যেতে পারে। পঁচা খাবার, রান্নার গন্ধ, মসলা, পারফিউম বা ফুলের গন্ধ অসহ্য লাগতে পারে।

১০. খাবারে অরুচি

পূর্বে পছন্দের খাবার এখন ভালো না লাগতে পারে। যেমন, মাংস বা মাছ খেতে অনীহা দেখা দিতে পারে।

১১. নির্দিষ্ট খাবারের প্রতি তীব্র ইচ্ছা

হঠাৎ করে মিষ্টি বা টক খেতে খুব ইচ্ছা হতে পারে। এই ইচ্ছা প্রবল হয় এবং নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

১২. মাথা ব্যথা

হরমোনের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় মাথা ব্যথা হতে পারে।

এই লক্ষণগুলো দেখা দিলেই যে কেউ গর্ভবতী হবেন, তা নয়। অন্যান্য কারণেও হতে পারে। তাই নিশ্চিত হতে প্রেগনেন্সি টেস্ট করানো জরুরি। নিয়মিত মাসিক হলে মিস হওয়ার পরের দিন, অনিয়মিত হলে শেষ মাসিকের ৩৬ দিন পর টেস্ট করতে হবে। টেস্ট করে গর্ভধারণ নিশ্চিত হলে দ্রুত আয়রন ও ফলিক এসিড খাওয়া শুরু করতে হবে, যা শিশুর জন্মগত ত্রুটি কমায়। চা ও কফি এড়িয়ে চলতে হবে।