পল্লবীতে শিশু হত্যা মামলায় আসামি সোহেলের ক্ষমাপ্রার্থনা, স্বপ্না নির্দোষ দাবি
পল্লবীতে শিশু হত্যা মামলায় সোহেলের ক্ষমাপ্রার্থনা

আজ বুধবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পল্লবীতে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষ হয়েছে। শুনানিতে প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে ক্ষমাপ্রার্থনা করে দাবি করেন, ডলার নামের আরেক ব্যক্তিও এই ঘটনায় জড়িত। তাকেও গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান তিনি। অন্যদিকে, মামলার আরেক আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেছেন।

আদালতের কার্যক্রম

আজ সকালে সোহেল ও স্বপ্নাকে কারাগার থেকে আদালত প্রাঙ্গণে আনা হয়। তাঁদের হাজতখানায় রাখা হয়। বেলা পৌনে ১১টার দিকে সোহেলকে এবং ১১টার দিকে স্বপ্নাকে হাজতখানা থেকে আদালতে তোলা হয়। বেলা ১১টা ১০ মিনিটে বিচারক এজলাসে আসেন এবং বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

বিচারক সোহেলের উদ্দেশে বলেন, এই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ১৬ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। এরপর আদালত সোহেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য পড়ে শোনান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সোহেলের বক্তব্য

সোহেল কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আমি নির্দোষ স্যার। আমার সাথে যে ছিল ডলার, তাঁরে আপনারা ধরেন। আমি দোষ করি নাই তা না, আমিও দোষ করেছি, ডলারও দোষ করেছে। ...আমারে মাফ করে দেন, আমার একটা ছোটো ছাওয়াল আছে।’ এ সময় তিনি তাঁর স্ত্রীর বিষয়ে বলেন, ‘আমার বউটা একদম নির্দোষ স্যার।’

স্বপ্নার বক্তব্য

পরে আদালত স্বপ্নার উদ্দেশে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য অনুযায়ী তিনিও একই অপরাধে দোষী। তাঁর কোনো কথা থাকলে তা বলতে বলেন আদালত। স্বপ্না আদালতকে বলেন, ‘আমি কিছু করি নাই, আমি নির্দোষ।’

পরবর্তী শুনানি

আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু আগামীকাল বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্কের জন্য দিন নির্ধারণের আবেদন করেন। আদালত তা মঞ্জুর করে। বিচারক মাসরুর সালেকীন যুক্তিতর্কের জন্য আগামীকাল দিন ধার্য করেছেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার বিবরণ

গত ১৯ মে পল্লবীর একটি ভবনের তিনতলার ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ফ্ল্যাটটির বাসিন্দা সোহেল ঘটনার পর বাসার শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। বাসা থেকে তাঁর স্ত্রীকে তখনই আটক করা হয়। সেদিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এই ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আসামি সোহেল। পুলিশ জানায়, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা তিনি স্বীকার করেন। এই মামলায় গতকাল ১৬ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।