রাজধানীতে অপহরণ চক্রের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার ঢাবি শিক্ষার্থী
রাজধানীতে অপহরণ চক্রের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার

রাজধানীর আদাবর ও শ্যামলী এলাকায় সক্রিয় একটি অপহরণ ও ছিনতাই চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চক্রটির সদস্যরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করেছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে তথ্য

আজ বুধবার রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম।

ঘটনার বিবরণ

পুলিশের ভাষ্য, কয়েক দিন আগে রাত ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদমান সাকিব শ্যামলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছান। এ সময় তিন থেকে চারজন যুবক দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁকে অপহরণ করে একটি সরু গলিতে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁর কাছে থাকা মুঠোফোন, মানিব্যাগ ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাঁর পরিবারের কাছে বিকাশের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রেপ্তার ও উদ্ধার

মো. ফজলুল করিম বলেন, ঘটনাস্থলের কাছ দিয়ে টহল পুলিশ যাওয়ার সময় ভুক্তভোগী চিৎকার করলে পুলিশ দ্রুত সেখানে পৌঁছে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের সদস্যরা পালিয়ে গেলেও জাহিদ হোসেন নামের একজনকে আটক করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা

  • জাহিদ হোসেন (২০)
  • হোসাইন আহম্মদ ওরফে সিফাত (২৫)
  • ইয়াছিন ওরফে আজমান (২৭)
  • আরিফুল ইসলাম (২৩)
  • মাহিম চৌধুরী আকাশ (২০)
  • সাকিব (২৪)
  • সোহেল রানা (২৪)
  • মো. নাঈম (২৩)
  • মো. মর্তুজা তামিম (২৬)

চক্রের কার্যকলাপ

পুলিশ জানায়, চক্রটি মূলত মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় সক্রিয় ছিল। বিশেষ করে ভোরের দিকে ব্যবসায়ী বা একা চলাচলকারী ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করত তারা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা

সংবাদ সম্মেলনে মো. ফজলুল করিম বলেন, জাহিদ হোসেন চক্রটির মূল পরিকল্পনাকারী। তাঁর বিরুদ্ধে আগেও দুটি মামলা রয়েছে। একইভাবে আরও দুজনের বিরুদ্ধেও দুটি করে মামলা আছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদাবর থানায় মামলা হয়েছে। তাঁদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তারা আর কোথায় কোথায় একই ধরনের অপরাধ করেছে এবং আরও কোনো ভুক্তভোগী আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অর্থ লেনদেনের পদ্ধতি

পুলিশের দাবি, অপহরণের পর ভুক্তভোগীদের মুঠোফোন ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করত চক্রটি। বিকাশে পাঠানো অর্থ বিভিন্ন এজেন্টের মাধ্যমে নগদ উত্তোলনের পর ভুক্তভোগীদের ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যেত তারা।