ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা: দুই পা বিচ্ছিন্ন পুলিশ সদস্যের ঢাকায় চিকিৎসা
নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় এক মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া পুলিশ সদস্য এমরান মিয়াকে (৩০) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। সোমবার বেলা দেড়টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল থেকে তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়। এই দুর্ঘটনায় এমরান মিয়ার বাঁ পা হাঁটুর নিচ থেকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, আর ডান পা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
সোমবার সকালে নওগাঁর আত্রাই স্টেশনে সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে নামার সময় এমরান মিয়া লাফ দিতে গিয়ে চাকার নিচে পড়ে যান। এই ভয়াবহ ঘটনায় তাঁর দুই পা হাঁটু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তাঁকে প্রথমে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়, এরপর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা বিচ্ছিন্ন পা নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার পরামর্শ দেন, ফলে একটি কার্টনে বরফ দিয়ে সংরক্ষিত পা ও রোগীকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া হয়।
চিকিৎসা প্রক্রিয়া ও পরিবারের সিদ্ধান্ত
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ও জরুরি বিভাগের ইনচার্জ শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, পরিবারের সদস্যরা আহত এমরান মিয়াকে ঢাকায় নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করায় তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই এমরানকে নিয়মিত রক্ত ও স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে, এমনকি অ্যাম্বুলেন্সে যাত্রার সময়ও এই চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে। তাঁকে ঢাকায় পুলিশ হাসপাতালে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এমরান মিয়ার ব্যক্তিগত জীবন ও দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট
এমরান আলীর বাড়ি পিরোজপুর জেলায়, এবং তিনি বর্তমানে বাগেরহাটে কর্মরত আছেন। তাঁর শ্বশুরবাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলার তারাটিয়া গ্রামে অবস্থিত। শ্বশুরবাড়ির জমিসংক্রান্ত জটিলতা সমাধানের জন্য তিনি নওগাঁ এসেছিলেন। এমরানের শ্বশুর আবদুল খালেক জানান, তাঁর নিজের কোনো ছেলে নেই, তাই জামাতারা ছেলের মতো সব বিষয়ে খোঁজখবর রাখেন। কিছুদিন ধরে চলমান জমি সংক্রান্ত সমস্যা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এমরানকে ডাকা হয়েছিল, এবং ফেরার পথে ট্রেন থেকে নামার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
এমরান মিয়ার বাবা একজন অবসরপ্রাপ্ত মাদ্রাসাশিক্ষক। তিনি এক মেয়ে ও চার ছেলের মধ্যে সবার ছোট। প্রায় নয় বছর আগে নওগাঁর আত্রাইয়ে বিয়ে করেন এমরান, এবং তাঁর দুই ছেলে–মেয়ে রয়েছে। এই দুর্ঘটনা পরিবারটিকে গভীর শোকে নিমজ্জিত করেছে, এবং উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে তাঁর স্বাস্থ্য ফিরে পাওয়ার আশায় সবাই প্রার্থনা করছেন।



