রাজবাড়ীতে রিকশার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সাংবাদিক সোহেল মিয়ার মায়ের মৃত্যু
রাজবাড়ী শহরের পান্না চত্বরে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় রিকশার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে পড়ে গিয়ে সাংবাদিক সোহেল মিয়ার মা সেলিনা আক্তারের মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই শোকাবহ ঘটনাটি ঘটে, যা স্থানীয় সম্প্রদায়কে গভীর শোকে নিমজ্জিত করেছে।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
সেলিনা আক্তার (৬৫) বালিয়াকান্দি উপজেলা সদরের প্রয়াত মোজাম্মেল হোসেন মিয়ার স্ত্রী এবং বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল মিয়ার মা। পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিনি আজ সকালে নাতনি ও জামাতা কাজী হুমায়ুন কবিরকে নিয়ে আদালতের কাজে রাজবাড়ী শহরে আসেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি তাঁদের আদালত এলাকায় রেখে নিজে রেলগেট এলাকার একটি হোটেলে নাশতা করতে রিকশায় রওনা দেন।
পথে পান্না চত্বর পার হওয়ার সময় তাঁর ওড়না রিকশার চাকার সঙ্গে পেঁচিয়ে যায়, যা একটি ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে। এই ঘটনায় গলায় ফাঁস লেগে তিনি পাকা সড়কে পড়ে যান এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান। স্থানীয় লোকজন তৎক্ষণাৎ তাঁকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়, কিন্তু সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল ও পুলিশের বক্তব্য
হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা রাজীব দে সরকার বলেন, "সকাল পৌনে ১০টার দিকে সাংবাদিক সোহেল মিয়ার মাকে হাসপাতালে আনা হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা করে দেখেন, হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা গেছেন। আমরা বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি।"
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার জিয়াউর রহমান জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে দাফনের জন্য লাশ দুপুরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত নারীর ছেলে সাংবাদিক সোহেল মিয়া সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন, যা আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পরিবার ও সম্প্রদায়ের শোক
এই দুর্ঘটনা সেলিনা আক্তারের পরিবার এবং স্থানীয় সাংবাদিক সম্প্রদায়কে গভীরভাবে আঘাত করেছে। সোহেল মিয়া একজন সম্মানিত সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত, এবং তাঁর মায়ের আকস্মিক মৃত্যু সমাজের বিভিন্ন স্তরে শোকের ছায়া ফেলেছে। স্থানীয়রা নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে এই ঘটনাকে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করছেন।
এই শোকাবহ ঘটনা রাজবাড়ী জেলার জন্য একটি বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে রইল, এবং এটি সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা শোক প্রকাশ করে মৃতার আত্মার শান্তি কামনা করছেন।



