রাজশাহী রামেক হাসপাতালে হামে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত ৪২
রামেকে হামে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত ৪২

রাজশাহী রামেক হাসপাতালে হামের প্রাদুর্ভাবে আরও দুই শিশুর মৃত্যু

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালের মিডিয়া মুখপাত্র ও ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. শঙ্কর কে বিশ্বাস এই তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

চিকিৎসাধীন শিশুর সংখ্যা ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান

বর্তমানে হাসপাতালটিতে হামের লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ১৩৮ জন শিশু। নতুন করে দুই শিশুর মৃত্যুর ফলে এই বিশেষ উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালটিতে এ পর্যন্ত মোট ৪২ জন প্রাণ হারিয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। গত রোববার সকাল ৯টা থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নতুন করে আরও ২০ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, যা পূর্ববর্তী দিনগুলোর তুলনায় কিছুটা বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনা

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে যে, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেলেও ভর্তিকৃত রোগীর চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি পুরো শিশু ওয়ার্ডকে হাম আইসোলেশন ইউনিটে রূপান্তর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এছাড়া স্বাস্থ্য সচিবের বিশেষ নির্দেশনায় রাজশাহীর হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে আইসিইউতে থাকা হাম আক্রান্ত শিশুদের স্থানান্তরের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ডা. শঙ্কর কে বিশ্বাস জানান, রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নতুন করে রোগী ভর্তির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। রাজশাহীতে হামের এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগ বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্বাস্থ্য বিভাগের পদক্ষেপ ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটগুলোতে পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিতে শিশুদের টিকা দান নিশ্চিত করা এবং প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পরিস্থিতি গুরুতর আকার ধারণ করলে আরও বিশেষায়িত ইউনিট খোলার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।

সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনায় স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসন এই সংকট নিরসনে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে যাতে মৃত্যুহার কমিয়ে আনা সম্ভব হয়। এই প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সমন্বিত প্রচেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।