প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদি আমিন মঙ্গলবার বলেছেন, বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে দক্ষ, সক্ষম ও দায়িত্বশীল তরুণ প্রজন্ম গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
কর্মশালায় বক্তব্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত 'বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষের রোডম্যাপ' শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।
মাহদি আমিন বলেন, 'বাংলাদেশকে যে রূপে আমরা দেখতে চাই, সেই সমৃদ্ধ দেশ গড়তে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে আরও দক্ষ, সক্ষম ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।'
শিক্ষাকে জাতির মেরুদণ্ড হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিশাল যুব জনসংখ্যা একটি বড় জনমিতিক সুযোগ।
শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, 'দেশকে এগিয়ে নিতে হলে আপনাদের জ্ঞান, বুদ্ধি, সৃজনশীলতা ও দিকনির্দেশনা কাজে লাগিয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশকে শক্তিশালী করতে হবে এবং জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে।'
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের প্রতিটি বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনে এই প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
মাহদি আমিন বলেন, তিন মাস আগে 'মুক্ত, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের' মাধ্যমে গঠিত সরকার প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচনি অঙ্গীকার পূরণে নিরলস কাজ করছে।
শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন
তিনি শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন ও স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নাগরিক মূল্যবোধ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও পেশাগত যোগ্যতা একীভূত করার ওপর জোর দেন।
উপদেষ্টা গবেষণা, নীতি পরামর্শ ও পদ্ধতিগত উদ্ভাবনের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন।
সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি
সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে মাহদি আমিন সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রার উন্নয়নে প্রযুক্তিনির্ভর কল্যাণ ব্যবস্থার কথা বলেন।
তিনি বলেন, কৃষকরা ডিজিটাল কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি ভর্তুকি ও কৃষি সহায়তা পাবেন, অন্যদিকে আধুনিক প্রযুক্তি ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস সরঞ্জাম কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করবে।
সরকার সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে ই-হেলথ কার্ড চালু করার পরিকল্পনা করছে, যাতে দূরবর্তী এলাকার রোগীরা সরকারি স্কিমের আওতায় বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা পেতে পারেন।
মাহদি আমিন বলেন, 'এক শিক্ষক, এক ট্যাব' উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষকদের মর্যাদা ও দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে সরকার, যা শিক্ষকদের ডিজিটাল ডিভাইস ও আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ প্রদান করবে।
সরকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আধুনিক ও ডিজিটালাইজড পাঠ্যক্রমের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলতে চায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কর্মশালার উদ্বোধন
প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান সকাল ১১টায় কর্মশালার উদ্বোধন করেন এবং বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের আয়োজনে উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। অধ্যাপক মামুন ইউজিসির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে একটি ক্রেস্ট উপহার দেন।



