ইনক্লাইন ওয়াকিং নাকি সমতলে দৌড়ানো: কোনটি আপনার জন্য ভালো?
ইনক্লাইন ওয়াকিং নাকি দৌড়: কোনটি ভালো?

যে ব্যায়াম আপনার পক্ষে সুবিধাজনক, বেছে নিতে পারেন সেটিই। ঢালু পথে হেঁটে উঠতে হলে স্বাভাবিকভাবেই সমতলের তুলনায় বেশি শক্তি ব্যয় করতে হয়। ফলে কম সময়ে তুলনামূলক বেশি ক্যালরি খরচ হয়। পাহাড়ি পথে হাঁটার সময় যেমনটা হয়।

ইনক্লাইন ওয়াকিং কী?

ঢালু পথে হেঁটে ওঠার মতো উপকার পাওয়া যায় কিছু ট্রেডমিলেও, যেগুলোর হাঁটার জায়গাটাকে বাঁকিয়ে ঢালু করে নেওয়া যায়। অর্থাৎ সমতলে থেকেও আপনি ইনক্লাইন ওয়াকিং করতে পারবেন এ ধরনের ট্রেডমিলের সাহায্যে। তবে সমতলে দৌড়ানোও খুব ভালো ব্যায়াম। সমতলে হাঁটার চেয়ে দৌড়ালে অনেক বেশি ক্যালরি পোড়ানো যায়।

ইনক্লাইন ওয়াকিংয়ের উপকারিতা

দীর্ঘদিনের চর্চায় ব্যায়ামের উপকার মেলে। সমতলে হাঁটার চেয়ে যে ইনক্লাইন ওয়াকিং আর সমতলে দৌড়ানো দুটোই অনেক বেশি ভালো ব্যায়াম, সে তো বুঝতেই পারছেন। তবে এই দুইয়ের মধ্যে কোনটার চর্চা আপনি করবেন, তা নির্ভর করে বেশ কিছু বিষয়ের ওপর। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভালো–মন্দ দিক সম্পর্কে জেনে রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে ইদানীং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ইনক্লাইন ওয়াকিংয়ের ওপর বেশ জোর দেওয়া হচ্ছে বলেই বিষয়টি জেনে রাখা ভালো।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইনক্লাইন ওয়াকিংয়ের সময়

  • সমতলে হাঁটার চেয়ে প্রায় দেড় গুণ ক্যালরি পোড়ে।
  • মেদ ঝরানো তুলনামূলক সহজ হয়।
  • নিতম্ব ও পায়ের বিভিন্ন পেশির জোর বাড়ে।
  • শরীর থাকে অনেক বেশি ফিট।
  • আর এই ফিটনেস ধরে রাখতে গিয়ে জয়েন্টের ওপর অতিরিক্ত চাপও পড়ে না।
  • নিরাপদ স্থানে ব্যায়ামটা করতে পারলে এর কারণে আঘাত পাওয়ারও তেমন ঝুঁকি নেই। বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি কিংবা অন্য যাঁদের পক্ষে ভারী ব্যায়াম করা কঠিন, তাঁরাও এই ব্যায়াম করতে পারেন।

মাঝারি তীব্রতার ব্যায়াম হওয়ায় এই ব্যায়ামের চর্চা গড়ে তোলা খুব একটা কঠিন নয়, যদি এ ব্যায়ামের উপযুক্ত একটি ট্রেডমিল থাকে আপনার। আর এই ব্যায়াম অভ্যাসটা ধরে রাখাও সহজ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যদি আপনার কেবল সমতলে হাঁটার অভ্যাস থাকে কিংবা কোনো ব্যায়ামের অভ্যাসই না থাকে, তবু আপনার পক্ষে ইনক্লাইন ওয়াকিং খুব কঠিন ব্যাপার হবে না। তবে আপনি যদি ট্রেডমিলে ইনক্লাইন ওয়াকিং না করে সময়–সুযোগ বুঝে পাহাড়ি পথে হাঁটতে চান, তাহলে আবার বিষয়টা অন্য রকম। অনভ্যস্ত ব্যক্তির পক্ষে পাহাড়ি পথে চলা কঠিন। সেখানে চলতে গেলে নিরাপত্তার দিকটা খেয়াল রাখা আবশ্যক।

সমতলে দৌড়ের হিসাব–নিকাশ

ব্যায়াম অল্প কিছুদিনের বিষয় নয়। দীর্ঘদিনের চর্চায় ব্যায়ামের উপকার মেলে। ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং ফিটনেস ধরে রাখার জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করতেই হবে। যে ব্যায়াম আপনার পক্ষে সুবিধাজনক, বেছে নিতে পারেন সেটিই। মাঝারি তীব্রতার ব্যায়াম করলে অভ্যাস ধরে রাখা সহজ।

ইনক্লাইন ওয়াকিং শুরু করতে চাইলে প্রথমে অল্প ঢালু করে নিন ট্রেডমিলে দৌড়ানোর জায়গাটা। প্রথম দিকে নিজের গতিও রাখুন সীমিত। ধীরে ধীরে চর্চার মাধ্যমে গতি বাড়ান। ঢালও বাড়ান ধীরে ধীরে। ক্যালরি পোড়ানোর জন্য তো ব্যায়াম করবেনই, শরীরের সব পেশির জোর বাড়ানোর জন্যও বিভিন্ন ব্যায়াম করুন (মাসল স্ট্রেনদেনিং এক্সারসাইজ)। সপ্তাহে অন্তত দুটি দিন এ ধরনের ব্যায়াম করা উচিত। ভারসাম্যের ব্যায়ামও করুন।

দৌড়ানোর জায়গার অভাবও হতে পারে শহুরে জীবনে। অন্ধকার, বৃষ্টি বা কুয়াশার কারণেও দৌড়ের চর্চা কঠিন হতে পারে। এসব দিক বিবেচনায় রাখলে ইনক্লাইন ওয়াকিংয়ের চেয়ে সমতলে দৌড় কিছুটা পিছিয়েই পড়বে।

শেষ কথা

সমতলে দৌড়ানোও খুব ভালো ব্যায়াম। সমতলে দৌড়ানোর সময় সমতলে হাঁটার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বা তারও বেশি ক্যালরি পোড়ানো সম্ভব। মেদও ঝরে। পায়ের বিভিন্ন পেশির জোরও বাড়ে নিঃসন্দেহেই। তবে দৌড়ানো সবার জন্য সহজ নয়।

পর্যাপ্ত ক্যালরি পোড়ানোর মতো জোরে দৌড়াতে গেলে পায়ের বিভিন্ন জয়েন্টের ওপর অনেক বেশি চাপ পড়ে। এ ছাড়া ফিটনেস ঠিক না থাকলে দৌড়ানোর সময় পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষত বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তির জন্য দৌড় বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। আর পড়ে না গেলেও তাঁদের হাঁটু কিংবা পায়ের অন্য কোনো জয়েন্টে ব্যথা হতে পারে দৌড়ানোর কারণে।

যাঁদের আগে থেকেই হাঁটু কিংবা পায়ের কোনো জয়েন্টে কোনো সমস্যা আছে, তাঁদের পক্ষে দৌড়ানো খুবই কষ্টকর ব্যায়াম। এ ছাড়া যে কারও জন্যই নিয়মিত দৌড়ের অভ্যাস ধরে রাখা কঠিন। তীব্র মাত্রার ব্যায়াম করার ইচ্ছা ধরে রাখাটাও একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।