রাকসু নেতার বিতর্কিত মন্তব্য: নেপালের সরকার গঠনের কারণ হিসেবে ঢাবির অনুপস্থিতির উল্লেখ
রাকসু নেতার মন্তব্য: নেপালে সরকার গঠন ও ঢাবির ভূমিকা

রাকসু নেতার বিতর্কিত মন্তব্য: নেপালের সরকার গঠনে ঢাবির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার নেপালে গন-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী নেতাদের সরকার গঠনের পেছনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুপস্থিতিকে একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ বক্তব্য দেন, যা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

ফেসবুক পোস্টে আম্মারের মূল বক্তব্য

সালাহউদ্দিন আম্মার তার পোস্টে উল্লেখ করেন, "নেপালে গন-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া নেতারা সরকার গঠন করেছে কারণ সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাই, ভাই-ব্রাদার কোরাম নাই।" তিনি আরও বলেন, ঢাবিয়ানরা আল্লাহর ওয়াস্তে মোন খারাপ কইরেন না এবং অনেকেই তার সাথে একমত হবেন। তার মতে, জুলাইয়ের পরে ইমাম, মাস্টারমাইন্ড, মুয়াজ্জিন, নয় দফার ঘোষক, কে কারে আশ্রয় দিছে, কে কারে মোবাইল কিনে দিছে—এসব নিয়ে চরম মাত্রার পাগলামি করা হইছে।

ছাত্র আন্দোলন ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রতিফলন

আম্মার বলেন, তিনি তখন ক্যাম্পাসের বিভিন্ন মুভমেন্ট করতেছিলেন, যখন চলমান ছিল পোষ্য কোটা আন্দোলন। তিনি দাবি করেন, জাতীয় নেতারা এসব নিয়ে এতোটাই পড়ে ছিলো যে তারা ঢাবি থেকে একটা ঢাক দিয়ে পোষ্য কোটা বাতিলের আওয়াজ তোলার সময় পায়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঢাবির কোনায় কোনায় জুলাই নিয়ে কোটি কোটি টাকার কালচারাল প্রোগ্রাম হয়েছে, যা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিপ্রেক্ষিতে একটি বৈপরীত্য তৈরি করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাকসুর জিএস বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা আয়োজনের প্রপোজাল নিয়ে দিনের পর দিন অভ্যুত্থানের নেতাদের সাথে দেখা করার জন্য ঘুরেছেন। তিনি নিজেকে এতোটাই উপেক্ষিত মনে করেন যে, তার সব ঠিক আছে হয়তো একটাই ভুল—সেটা হলো তিনি ঢাবিতে চান্স পাননি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নেপালের সরকার ও ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি

নেপালের জেন-জি সরকারকে শুভকামনা জানিয়ে আম্মার বলেন, অভ্যুত্থানের নেতারা যে দলই বানাবে, সেটাই তার প্রাণের সংগঠন। তবে তিনি সেই সময়গুলোকেই দায়ি করবেন, যখন ভাই-ব্রাদার বানানোর পরিবর্তে মানুষকে মূল্যায়ন করেছিলেন ফ্যান-ফলোয়ার দিয়ে। তার মতে, উপেক্ষা করতে করতে হাজার হাজার ভাই-ব্রাদার হারানো হয়েছে, যা ছাত্র রাজনীতির একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

এই মন্তব্যটি শিক্ষা ও রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে, যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা এবং ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আম্মারের বক্তব্যে ছাত্র আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি এবং নেতৃত্বের মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে একটি গভীর প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়।