দিনাজপুরের বিরামপুরে শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত ৭০০ পরিবারের টিনের আবেদনে প্রশাসন বিপাকে
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় সম্প্রতি সংঘটিত শিলাবৃষ্টি ও সামান্য ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মেরামতের জন্য সরকারি ঢেউটিন পাওয়ার আশায় প্রায় ৭০০ পরিবার আবেদন করেছে। এই বিপুল সংখ্যক আবেদন আগে কখনও দেখা যায়নি, যা স্থানীয় প্রশাসনের জন্য বিস্ময় ও চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি করেছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সোমবার (৩০ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, যেখানে আবেদন যাচাই-বাছাই ও সত্যতা নিরূপণ নিয়ে প্রশাসন পড়েছে গভীর বিপাকে।
শিলাবৃষ্টির ঘটনা ও আবেদনের হুজুগ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ মার্চ রাতে বিরামপুর উপজেলায় শিলাবৃষ্টি ও সামান্য ঝড় হয়। এতে কিছু লোকের ঘরের টিনের চালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা পূর্বের বছরগুলিতে দুস্থ ব্যক্তিদের জন্য সরকারি টিন বরাদ্দ দেওয়ার রীতি অনুসরণ করে। তবে এবারে সরকারি টিন পাওয়ার আশায় আবেদন পড়েছে গণহারে, বিশেষ করে ঈদের পর তিন কার্যদিবসে একরকম হুজুগে প্রায় ৭০০ আবেদন জমা পড়েছে।
আবেদনে জালিয়াতি ও যাচাইয়ের জটিলতা
বিষয়টি আরও জটিল হয়ে পড়েছে যখন অনেক আবেদনকারী নিজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির ছবি না দিয়ে কম্পিউটার দোকান থেকে একই ছবি বহুবার প্রিন্ট করে আবেদনের সঙ্গে জমা দিয়েছেন। ফলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি নির্ণয় করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। বিরামপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান বলেন, "বিপুল সংখ্যক আবেদন নিয়ে আমরা বিপাকে পড়েছি। একই রকমের ছবি দিয়ে প্রায় ৭০০ আবেদন জমা পড়ায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত যাচাই-বাছাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।"
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও নিশ্চয়তা
আবার উপজেলা জুড়ে আবেদনকারীদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে সত্যতা নিরূপণের কাজও অনেক সময় সাপেক্ষ বলে উল্লেখ করেছেন কর্মকর্তা। তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ছাড়া কেউ সহায়তা পাবেন না। একইভাবে, বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিনা সুলতানা নীলা বলেন, "একই রকম ছবি দিয়ে অনেকে আবেদন করেছেন। তবে সরজমিন পরিদর্শন করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের নির্ণয় করা হবে।" এই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রশাসন আশা করছে যে, প্রকৃত প্রয়োজনমাফিক সহায়তা বিতরণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।



