গাইবান্ধায় পৈতৃক জমি বিরোধে ছেলে বাবার কবর ভাঙচুরের অভিযোগ
গাইবান্ধায় পৈতৃক জমি বিরোধে ছেলে বাবার কবর ভাঙচুর

গাইবান্ধায় পৈতৃক জমি বিরোধে ছেলে বাবার কবর ভাঙচুরের অভিযোগ

গাইবান্ধা সদর উপজেলায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ নিয়ে ক্ষোভে ছোট ছেলে তার নিজের বাবার কবর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের দক্ষিণ আনালের তাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

জমি বণ্টন নিয়ে ক্ষোভের বিস্ফোরণ

অভিযুক্ত শাহ আলম মিয়া শালু ওই গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নান মিয়ার ছোট ছেলে। পরিবারিক সূত্রে জানা যায়, আব্দুল মান্নান মিয়া জীবদ্দশায় তার চার বিঘা জমি পাঁচ ছেলের মধ্যে বণ্টন করে দিয়েছিলেন। ছেলেরা হলেন— জালাল উদ্দিন, ইকবাল মিয়া, রেজ্জাক মিয়া, এজাদুল মিয়া এবং সবার ছোট শাহ আলম মিয়া শালু।

অভিযোগ রয়েছে, মেজ ভাই ইকবাল মিয়া বেশি জমি পেয়েছেন— এমন ধারণা থেকে ক্ষুব্ধ হন ছোট ছেলে শালু, যিনি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য। বাবার কবরটি মেজ ভাইয়ের অংশে পড়ায় তিনি ওই জায়গার মালিকানা দাবি করে কবরের ওপর উঠে বাঁশের বেড়া, গাছ ও অন্যান্য কাঠামো ভাঙচুর করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ও সমালোচনা

ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শাহ আলম মিয়া শালু এলাকায় প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করেন এবং তার অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে সাধারণ মানুষকে হুমকি-ধমকি দেন।

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিজের বাবার কবরের ওপর এমন তাণ্ডবলীলা গ্রামবাসী ও স্বজনদের হতবাক করেছে। অনেকেই এটিকে নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন।

অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যর্থ

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শাহ আলম মিয়া শালুর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অন্য চার ভাইয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, যা ঘটনার জটিলতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইউপি সদস্যের নিন্দা

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খোলাহাটি ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল হাই বলেন, ‘এমন ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। জমির তুচ্ছ বিরোধ নিয়ে নিজের জন্মদাতা বাবার কবর ভাঙচুর করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি সামাজিক শান্তি ও পারিবারিক মূল্যবোধের জন্য একটি গুরুতর আঘাত।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এলাকাবাসী আশা করছেন, দ্রুত বিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।