দূষিত রাজনীতি বা হাততালি পাওয়ার আশায় নয়, বরং আগামী নতুন প্রজন্ম শতবর্ষের টেকসই এক সুন্দর ও নিরাপদ উপজেলা পায়, সেই লক্ষ্যে নেত্রকোনার দুর্গাপুরের সার্বিক উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। সোমেশ্বরী নদী থেকে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে সৃষ্ট বিপর্যয় রোধ, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং যানজট নিরসনে নির্মাণ করা হবে দৃষ্টিনন্দন সেতু ও বিকল্প সড়ক।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকাল ৫টায় নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময় ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার এবং নেত্রকোনা-১ আসন থেকে নির্বাচিত এমপি ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড নেত্রকোনা ও উপজেলা প্রশাসন দুর্গাপুরের যৌথ আয়োজনে পরিকল্পনা মোতাবেক বালু উত্তোলন, নদীতে বাঁধ নির্মাণ ও নদীভাঙন প্রতিরক্ষায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুধীজন, সাংবাদিক ও পাউবো কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে বিপর্যয়
দীর্ঘদিন ধরে দুর্গাপুরে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে মানবসৃষ্ট জনদুর্ভোগ ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কথা তুলে ধরে ডেপুটি স্পিকার বলেন, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে দুর্গাপুরে আজ ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে রয়েছে। মহামান্য সুপ্রিম কোর্টে বালু উত্তোলন সংক্রান্ত বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। তবে সরকারি অনুমোদন সাপেক্ষে ভবিষ্যতে বালু উত্তোলন করা হলেও তা হবে সম্পূর্ণ পরিকল্পিত এবং বিজ্ঞানসম্মত। জনজীবন ও পরিবেশের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সেটি নিশ্চিত করা হবে।
নতুন সেতু ও সড়ক নির্মাণ পরিকল্পনা
দুর্গাপুরের সাধারণ মানুষ এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের চরম দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বর্তমানে যে কাঠের সেতুটি রয়েছে, তার ওপর দিয়েই একটি দৃষ্টিনন্দন স্টিলের সেতু নির্মাণ করা হবে। এ সেতুটি হবে সম্পূর্ণ ‘ওয়াকওয়ে’ বা পথচারী পারাপারের জন্য। এর ফলে শিবগঞ্জ ঘাট ও টেরি বাজারের দিক দিয়ে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারবে। পাশাপাশি সীমান্ত সড়ক, চৈতাটি ঘাট এবং ধোবাউড়া অংশে নতুন ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করার অঙ্গীকার
তিনি আরো বলেন, আমি আপনাদের সেবক হিসেবে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে চাই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষের মতামতের ভিত্তিতে দুর্গাপুরকে আমরা বাংলাদেশের বুকে অনন্য মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলব। দয়া করে আগামী ৫ বছরের জন্য সামান্য কিছু টাকা আয়ের চিন্তায় মগ্ন থাকবেন না। আপনার সন্তান কীভাবে সুন্দর দুর্গাপুর পাবে, সেই চিন্তা করুন।
মতবিনিময় সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী, সাংবাদিক এবং দুর্গাপুরের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।



