ঝালকাঠি পৌরসভার অনুমতিবিহীন জলাধার ভরাট করে ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণ, আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ
ঝালকাঠিতে অনুমতিবিহীন জলাধার ভরাট করে ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণ

ঝালকাঠি পৌরসভার অনুমতিবিহীন জলাধার ভরাট করে ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণ

ঝালকাঠি পৌরসভা সড়ক ও জনপথ বিভাগের জলাধার ভরাট করে ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণ করছে, কোনো অনুমতি ছাড়াই। শনিবার শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই অবৈধ কার্যক্রমের খবর প্রকাশিত হয়েছে। পৌরসভা সওজের কাছ থেকে অনুমতি না নিয়েই এই কাজ শুরু করেছে, এমনকি পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও গ্রহণ করেনি।

অবৈধ নির্মাণের পেছনে বরাদ্দ ও কাজের অগ্রগতি

ঝালকাঠি শহরের বাসস্ট্যান্ড–সংলগ্ন এলাকায় ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণের জন্য পৌরসভা ৭ লাখ ৭ হাজার ৮৮৭ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। সম্প্রতি কার্যাদেশ পেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজ শুরু করেছে। ঠিকাদার মাহমুদুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি কাজের অনুমতি পেয়েছেন, তাই কাজ শুরু করেছেন, তবে জমির মালিকানা বিষয়টি পৌর কর্তৃপক্ষ দেখবে।

সওজের উদ্বেগ ও আইনি নোটিশ

১৫ এপ্রিল ঝালকাঠি জেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে হাইওয়ে মাস্টার প্ল্যান-২০৪০ বাস্তবায়নে অংশীজনদের সভায় সওজের ঝালকাঠির নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার শরীফ খান এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি একই দিনে জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসক বরাবর চিঠি দিয়ে বাসস্ট্যান্ড–সংলগ্ন সওজের অধিগ্রহণ করা জমিতে ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণ না করার অনুরোধ জানান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বরিশাল-ঝালকাঠি-পিরোজপুর-বাগেরহাট-খুলনা জাতীয় মহাসড়ক চার লেনে উন্নতিকরণের পরিকল্পনা রয়েছে, এবং সড়কটি চার লেনে উন্নতিকরণ করা হলে সওজের অধিগ্রহণকৃত জমি প্রয়োজন হবে। সওজের অধিগ্রহণকৃত জমি যথাযথ প্রক্রিয়ায় অনুমতি ব্যতীত অন্য কোনো সরকারি–বেসরকারি কাজে ব্যবহারের সুযোগ নেই। ট্রাকস্ট্যান্ডের নির্মাণকাজে ভূমি ব্যবহার নীতিমালা-২০১৫ অনুযায়ী কোনো পূর্ব অনুমোদনও গ্রহণ করা হয়নি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জলাধার ভরাটের পরিবেশগত ও আইনি দিক

কৃষ্ণকাঠি মৌজার এই জায়গা সড়ক ও জনপথ বিভাগ অধিগ্রহণ করেছে, যা একটি জলাধার হিসেবে চিহ্নিত। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী, জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গা ভরাট বা শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। তবে এই জলাধার ভরাটের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।

পরিবেশ অধিদপ্তরের ঝালকাঠির সহকারী পরিচালক আনজুমান নেছা বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষ পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনুমতি নেয়নি। জলাধার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, আইন লঙ্ঘন করলে ৫ বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে, এবং আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার বিধান রয়েছে।

পৌরসভা ও সওজের বক্তব্য

ঝালকাঠি পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হাসান বলেন, 'ঝালকাঠি পৌরসভায় একটি ট্রাকস্ট্যান্ড থাকা একান্ত জরুরি, তাই প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করা হবে।'

অন্যদিকে, সওজের ঝালকাঠির নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার শরীফ খান বলেন, 'সড়ক ও জনপথ বিভাগের মালিকাধীন জলাশয় ভরাট করে ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণ সম্পূর্ণ অবৈধ। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।'

এই ঘটনায় স্থানীয় পরিবেশ ও অবকাঠামো উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্ন উঠেছে, এবং আইনি পদক্ষেপের দাবি জোরালো হচ্ছে।