প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় আগামী ৩-৬ মে চারদিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলন
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ৩-৬ মে জেলা প্রশাসক সম্মেলন

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আগামী ৩-৬ মে জেলা প্রশাসক সম্মেলন

নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে সরকার। আগামী ৩ থেকে ৬ মে পর্যন্ত চার দিনব্যাপী এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন এবং মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জন্য সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও নীতি-নির্ধারণী দিক-নির্দেশনা দেবেন।

সম্মেলনের মূল উপজীব্য: বিএনপির ইশতেহার ও ৩১ দফা

এবারের সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয় হবে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার এবং দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ‘রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা’ রূপরেখা। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, দুর্নীতি নির্মূল ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় মাঠ প্রশাসনকে প্রস্তুত করার উপর জোর দেওয়া হবে। সরকারের পক্ষ থেকে ডিসিদের জন্য সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনায় জনকল্যাণমুখী সেবা নিশ্চিতকরণ গুরুত্ব পাবে।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে জনকল্যাণমুখী ইশতেহার ও রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখা ঘোষণা করে। এবারের সম্মেলনে এই প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন পরিকল্পনা আলোচিত হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আলোচনার কেন্দ্রীয় বিষয়সমূহ

জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • মাঠ প্রশাসন শক্তিশালীকরণ: জেলা পর্যায়ে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করা এবং কাজের গতি বাড়ানো।
  • আইনশৃঙ্খলা ও দ্রব্যমূল্য: বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানো এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
  • ৩১ দফার বাস্তবায়ন: সংবিধান সংস্কার, প্রশাসনিক সংস্কার, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়নের মতো বিষয়গুলো মাঠ পর্যায়ে কীভাবে কার্যকর হবে, তার রূপরেখা।

এছাড়া ডিসিদের সম্ভাব্য প্রস্তাবের মধ্যে জনসেবা, অবকাঠামো নির্মাণ ও বিদ্যমান বিধিমালা সংশোধনের বিষয়গুলো প্রাধান্য পাচ্ছে।

ডিসিদের প্রস্তুতি ও বিশেষজ্ঞ মতামত

কুষ্টিয়ার ডিসি তৌহিদ বিন হাসান, পিরোজপুরের ডিসি আবু সাঈদ ও রাজবাড়ীর ডিসি আফরোজা পারভীনসহ কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ও রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখাকে প্রাধান্য দিয়েই তারা জেলা প্রশাসনের প্রস্তাবনাগুলো সাজাচ্ছেন। জনগণের দেওয়া ৫ বছরের ম্যান্ডেট সফল করতে তারা সরকারের স্বস্তিদায়ক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণে সচেষ্ট।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররফ হোসাইন ভূঁইয়া জানান, মাঠ পর্যায়ে সরকারের প্রতিনিধি বা মুখপাত্র হিসেবে ডিসিরা কাজ করছেন। জনসাধারণের সঙ্গে সেতুবন্ধনে ডিসিরা বড় ভূমিকা পালন করেন। সরকারের নির্দেশনা ও ডিসিদের প্রস্তাবনার সমন্বয় হলে তার সুফল সাধারণ মানুষ পাবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, সম্মেলনের প্রস্তুতি চলছে। এটি বর্তমান সরকারের প্রথম ডিসি সম্মেলন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনা দেবেন, যদিও তার নির্দেশনায় কি কি বিষয় থাকবে— তা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়।

সম্মেলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

মাঠ পর্যায়ে সরকারের প্রতিনিধি এবং নীতিনির্ধারক হিসেবে পরিচিত জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের মধ্যে সরাসরি মতবিনিময় এবং সরকারের প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেওয়ার জন্য সাধারণত প্রতি বছর জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বছরের মাঝামাঝি জুন-জুলাইয়ে আয়োজন করা হলেও করোনা মহামারির কারণে এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে। করোনার কারণে ২০২০ এবং ২০২১ সালে ডিসি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। ২০২২ সালের ১৮ থেকে ২০ জানুয়ারি তিনদিন এই সম্মেলন হয়। ২০২৩ সালে ডিসি সম্মেলন হয়েছে ২৪ থেকে ২৬ জানুয়ারি। ২০২৪ সালের ৩ মার্চ থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত চারদিন অনুষ্ঠিত হয়েছে ডিসি সম্মেলন। ২০২৫ সালে ডিসি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৬ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি।