মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং নেতা হত্যা মামলায় র‌্যাবের অভিযানে আরও দুই আসামি গ্রেপ্তার
কিশোর গ্যাং নেতা হত্যায় আরও দুই আসামি গ্রেপ্তার, র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত

মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং নেতা হত্যা মামলায় র‌্যাবের অভিযানে আরও দুই আসামি গ্রেপ্তার

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় কিশোর গ্যাং নেতা ইমন হোসেন ওরফে এলেক্স ইমনকে প্রকাশ্যে হত্যার ঘটনায় র‌্যাব আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের নাম মো. রানা ও রাসেল ওরফে পিচ্চি রাসেল। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে দুটি অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। এই হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ছয়জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ অভিযান।

হত্যাকাণ্ডের পটভূমি ও গ্রেপ্তার অভিযান

গত রোববার দিনের বেলায় মোহাম্মদপুরে প্রকাশ্যে ইমন হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ইমন ছিলেন কিশোর গ্যাং এলেক্স গ্রুপের প্রধান। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, একটি ছিনতাই হওয়া মুঠোফোন নিয়ে আরেক গ্রুপের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরেই তিনি খুন হন। খুনের আগে সকালে দুই দফায় প্রতিপক্ষ গ্রুপের সঙ্গে তাদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়েছিল। এই ঘটনায় এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। ইমনের মা ফেরদৌসী বেগম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেছেন, যাতে ২১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

র‌্যাব ২-এর একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালায়। মামলার ১৩ নম্বর আসামি মো. রানাকে (৩৭) মোহাম্মদপুরের পশ্চিম জাফরাবাদের পুলপাড় বটতলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে, মামলার ১৪ নম্বর আসামি রাসেল ওরফে পিচ্চি রাসেলকে (২৫) কাদেরাবাদ হাউজিং এলাকার একটি সড়ক থেকে আটক করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জব্দকৃত সামগ্রী ও তদন্তের অগ্রগতি

গ্রেপ্তারের সময় রানার কাছ থেকে একটি রেডমি নোট ১১ এস অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন এবং রাসেলের কাছ থেকে একটি আইটেল অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া মামলার তিন নম্বর আসামি মো. আরমানের বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র (সামুরাই) উদ্ধার করা হয়েছে বলে র‌্যাব সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

র‌্যাব ২-এর সহকারী পরিচালক হাসান মুহাম্মদ মুহতারিম জানিয়েছেন, হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান চলমান থাকবে।

হত্যার কারণ ও সামাজিক প্রভাব

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানা যায়, মোহাম্মদপুর এলাকার ফুটপাতের চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরেই ইমনকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষ গ্রুপ। এই ঘটনা এলাকায় অপরাধ ও সহিংসতার মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

এই হত্যাকাণ্ড কিশোর গ্যাংয়ের ক্রিয়াকলাপ ও তাদের মধ্যে সংঘাতের ভয়াবহ দিকটি সামনে এনেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হবে।