চাঁদপুরের ৪৫টি বাজারে খাজনা আদায় বন্ধ ঘোষণা এমপি মমিনুল হকের
চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক দুই উপজেলার প্রায় ৪৫টি বাজারে পহেলা বৈশাখ থেকে খাজনা আদায় বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে স্থানীয় বাজারগুলোতে প্রান্তিক চাষি ও সাধারণ বিক্রেতাদের হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও কর্মসূচির বিস্তারিত
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে শাহরাস্তি উপজেলার উয়ারুক বাজারে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক। তিনি জানান, স্থানীয় বাজারগুলোতে ইজারা আদায়ের নামে চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধ করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমপির নির্দেশে উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় রাজস্ব আগেভাগেই সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে, ফলে সাধারণ বিক্রেতাদের কাছ থেকে আর কোনো খাজনা আদায় করা হবে না।
প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া ও রাজস্ব নিশ্চয়তা
শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিয়া হোসেন জানিয়েছেন, এই উদ্যোগে রাজস্ব আদায়ে কোনো ঘাটতি হবে না, কারণ ইতোমধ্যেই রাজস্ব পরিশোধ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন বাজারগুলোতে ইজারা দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি দিলেও সব নিয়মনীতি অনুসরণ করে এমপির নির্দেশে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এমপির বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক বলেন, "আমরা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কথা চিন্তা করে এই উদ্যোগ নিয়েছি। খাজনা আদায়ের নামে প্রায়ই সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হয় এবং এই অজুহাতে অনেকে চাঁদাবাজি করে। আমার সংসদীয় আসনে কোনো প্রকার চাঁদাবাজি ও মানুষ হয়রানি হতে দেওয়া হবে না।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, শুধু বাজার নয়, বাসস্ট্যান্ড ও সিএনজি স্ট্যান্ডের মতো জায়গাতেও ইজারা ও চাঁদাবাজি বন্ধ থাকবে। কোনো অজুহাতে মানুষের ওপর অন্যায় বা জুলুম মেনে নেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও সামাজিক প্রভাব
এই ঘোষণার ফলে স্থানীয় বাজারগুলোর বিক্রেতারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে খাজনা আদায়ের নামে হয়রানি ও চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছিলেন। এমপির এই উদ্যোগকে তারা একটি সাহসী ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আশা করা হচ্ছে, এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।



