ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়ক নির্মাণের মান নিয়ে প্রশ্নে প্রকৌশলীকে বাঁশ নিয়ে তাড়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় সরকারি সড়ক নির্মাণকাজের মান নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এক উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে বাঁশ নিয়ে তাড়া করার অভিযোগ উঠেছে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। সোমবার দুপুরে উপজেলার শিবপুর এলাকায় এই উত্তেজনাকর ঘটনা ঘটে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, এলজিইডির অধীনে নবীনগর উপজেলার শিবপুর থেকে মেরকুটা পর্যন্ত সড়কে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের কাজ চলছে। এই কাজটি করছে মেসার্স লোকমান এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে শুরু থেকেই নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলে আসছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা, যা কাজের গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার দুপুরে সরেজমিনে কাজের মান তদারকি করতে যান উপ-সহকারী প্রকৌশলী মির্জা মো. তরিকুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে তিনি অভিযোগের সত্যতা পান এবং কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলায় ঠিকাদার লোকমান হোসেন ও তার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয় এবং ঠিকাদার ও তার অনুসারীরা প্রকৌশলীকে মারার জন্য বাঁশ নিয়ে তাড়া করেন।
ভুক্তভোগী প্রকৌশলীর বক্তব্য
ভুক্তভোগী প্রকৌশলী মির্জা তরিকুল ইসলাম জানান, "কাজের ত্রুটি ধরিয়ে দেওয়ায় ঠিকাদার ও তার লোকজন উত্তেজিত হয়ে তাকে মারতে আসে। তিনি কোনোমতে দৌড়ে গিয়ে নিজের প্রাণ রক্ষা করেন।" তিনি এই ঘটনায় নবীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন, যা আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার দিকে ইঙ্গিত করে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ঠিকাদার লোকমান হোসেনের মোবাইল ফোনটি বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও আইনি পদক্ষেপ
নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সরকারি কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
এই ঘটনা সরকারি প্রকল্পে ঠিকাদারদের দায়িত্বশীলতা ও তদারকি ব্যবস্থার গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন যে দ্রুত বিচার ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।



