পিএসএলে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে দেশে ফিরছেন শরীফুল ও নাহিদ
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজের প্রস্তুতির আগে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) নিজেদের শেষ ম্যাচেও উজ্জ্বল অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের দুই পেসার শরীফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা। মুলতান সুলতানসের বিপক্ষে পেশোয়ার জালমির ২৪ রানের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তারা, যা জাতীয় দলে ফেরার আগে তাদের আত্মবিশ্বাসকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
বিসিবির বিশেষ অনুরোধে পিএসএলে অতিরিক্ত দিন খেললেন বাংলাদেশি পেসাররা
মূলত এই দুই বোলারকে আরও একদিন নিজেদের ডেরায় রাখতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে বিশেষ অনুরোধ করেছিল পেশোয়ার জালমির কর্তৃপক্ষ। সেই অনুরোধের প্রতিদান তারা মাঠেই দিয়েছেন, যা তাদের দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্বের পরিচয় বহন করে। করাচিতে আজ টসে হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ উইকেটে ১৯৬ রানের পাহাড় গড়ে পেশোয়ার জালমি। জবাবে ব্যাট করতে নামা মুলতান সুলতানসকে ১৭২ রানে আটকে দেয় পেশোয়ারের বোলাররা, যেখানে বাংলাদেশি পেসারদের অবদান ছিল অপরিসীম।
নাহিদ রানার উইকেট শিকারে ও শরীফুলের রান নিয়ন্ত্রণে দক্ষতা
তরুণ ফাস্ট বোলার নাহিদ রানা ৪ ওভার বল করে মাত্র ২৪ রান দিয়ে শিকার করেন ২ উইকেট, যা তার ক্রমাগত উন্নতির ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলাম এদিন কোনো উইকেট না পেলেও ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে রানের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন, যা দলের জয়ে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। চলতি আসরে নাহিদ রানা ৪ ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়েছেন, যেখানে তার ইকোনমি রেট ছিল ঈর্ষণীয় (৫.৪২)। শরীফুল ৫ ম্যাচ খেলে ২ উইকেট পেলেও ওভারপ্রতি খরচ করেছেন ৭.৯৩ রান, যা কিছুটা উন্নতির সুযোগ নির্দেশ করে।
পিএসএলে মিশন শেষ করে জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগদানের প্রস্তুতি
পিএসএলে পেশোয়ারের হয়ে মিশন শেষ করে আগামীকালই (মঙ্গলবার) দেশে ফেরার কথা রয়েছে এই দুই পেসারের। এরপর তারা নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেবেন, যেখানে এই অভিজ্ঞতা তাদের জন্য মূল্যবান সম্পদ হিসেবে কাজ করবে। পেশোয়ারের বড় সংগ্রহের মূলে ছিল লঙ্কান ব্যাটার কুশল মেন্ডিসের বিধ্বংসী ব্যাটিং। তিনি ৪০ বলে সর্বোচ্চ ৬৮ রানের ইনিংস খেলেন। এছাড়া ওপেনার মোহাম্মদ হারিস ১৭ বলে ৩৮ রান করে ঝোড়ো সূচনা এনে দেন, যা দলের স্কোরবোর্ডকে দ্রুত এগিয়ে নিতে সাহায্য করে।
মুলতানের ব্যাটিং লাইনআপে ধস ও পিএসএল পয়েন্ট টেবিলে পেশোয়ারের শীর্ষ অবস্থান
রান তাড়ায় নেমে মুলতান সুলতানস ৮ উইকেটে ১৭২ রান তুলতে সক্ষম হয়। দলের পক্ষে শান মাসুদ ১৯ বলে সর্বোচ্চ ৩৫ রান করেন, কিন্তু তা পর্যাপ্ত ছিল না। পেশোয়ারের বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার সুফিয়ান মুকিম ৩০ রানে ৩ উইকেট নিয়ে মুলতানের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান, যা ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই জয়ের ফলে ৬ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করল অপরাজিত পেশোয়ার জালমি। সমান ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মুলতান সুলতানস, যা লিগের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশকে তুলে ধরে।



