যুক্তরাষ্ট্রে কাসেম সোলাইমানির ভাতিজি ও মেয়ের গ্রিন কার্ড বাতিল, ইরানি সম্পর্কের অভিযোগ
সোলাইমানির ভাতিজি ও মেয়ের গ্রিন কার্ড বাতিল, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে ইরানি সম্পর্কের অভিযোগে দুই নারীর গ্রিন কার্ড বাতিল

যুক্তরাষ্ট্র সরকার গত শুক্রবার রাতে দুই নারীকে গ্রেপ্তার করে তাদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বাতিল করেছে বলে ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, এই দুই নারীর একজন ইরানের কুদস ফোর্সের সাবেক প্রধান কাসেম সোলাইমানির ভাতিজি হামিদেহ সোলাইমানি আফশার এবং অন্যজন তাঁর মেয়ে।

গ্রেপ্তার ও বিতাড়নের প্রক্রিয়া

শনিবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর নিশ্চিত করেছে যে হামিদেহ সোলাইমানি আফশার ও তাঁর মেয়েকে অভিবাসনবিরোধী আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার (আইসিই) হেফাজতে রাখা হয়েছে। বর্তমানে তাদের বিতাড়িত করার প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে বাক্স্বাধীনতার ওপর সীমাবদ্ধতা এবং পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে ব্যক্তিদের দায়ী করার নীতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

মার্কিন সরকারের অভিযোগ ও ইরানের প্রতিক্রিয়া

পররাষ্ট্র দপ্তর হামিদেহ সোলাইমানি আফশারকে 'ইরানের স্বৈরাচারী ও সন্ত্রাসী শাসনের একজন সরব সমর্থক' হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারা দাবি করেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে এ ধরনের বক্তব্য সহ্য করা হবে না এবং 'ট্রাম্প প্রশাসন আমাদের দেশকে এমন বিদেশি নাগরিকদের আশ্রয়স্থল হতে দেবে না, যারা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থাকে সমর্থন করে।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তবে ইরানি গণমাধ্যম কাসেম সোলাইমানির মেয়ে জয়নাব সোলেইমানির বক্তব্য উদ্ধৃত করে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। জয়নাব বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে শহীদ সোলাইমানির কোনো সম্পর্ক নেই এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও অন্যান্য ঘটনা

এই গ্রেপ্তারের সময়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পাঁচ সপ্তাহ চলছে, যা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছে। গতকালের ঘোষণাটি চলতি মাসে দ্বিতীয়বারের মতো এমন ঘটনা, যেখানে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগে কারও বৈধ অভিবাসন মর্যাদা বাতিল করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দুই নারীর গ্রিন কার্ড বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঘটনায় নিজের কৃতিত্ব দাবি করেছেন। রুবিও লিখেছেন, 'এই সপ্তাহে আমি আফশার এবং তাঁর মেয়ের বৈধভাবে অবস্থানের অনুমতি বাতিল করেছি। তিনি ইরানি শাসনব্যবস্থার একজন সরব সমর্থক, যিনি মার্কিন নাগরিকদের ওপর হামলাকে উদ্‌যাপন করেছেন এবং আমাদের দেশকে "বড় শয়তান" হিসেবে উল্লেখ করেছেন।'

অতিরিক্ত তথ্য ও প্রভাব

পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের বিবৃতিতে আফশারের লস অ্যাঞ্জেলেসে 'অতিশয় বিলাসবহুল জীবনধারা' কেও তুলে ধরেছে। এছাড়া, আফশারের স্বামীকেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, অভিবাসন নীতি এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে শাস্তির নৈতিকতা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।