আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আজ মঙ্গলবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ সাক্ষী মো. রুহুল আমীন জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি বলেন, রাজধানীর মেরাদিয়ায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রমনিষিদ্ধ) লোকজন তাঁর বাসায় এসে হুমকি দেয়।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুরে রামপুরা থানার পাশে মেরাদিয়া কাঁচাবাজারে ছাত্র–আন্দোলন দেখতে যান রুহুল আমীন। সেখানে তিনি দেখেন বিজিবি, পুলিশ ও আওয়ামী লীগের লোকজন ছাত্রদের ওপর গুলি করছে। গুলিবিদ্ধ হয়ে কেউ মারা গেছেন, কেউ আহত অবস্থায় পড়ে আছেন। ভয়ে পেছনে বাসার দিকে রওনা দিলে একটি গুলি তাঁর কোমরের নিচে লেগে সামনে দিয়ে বেরিয়ে যায়।
হাসপাতাল থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কয়েকজন তাকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। ২০ জুলাই রাতে আওয়ামী লীগের লোকজন হাসপাতালের চিকিৎসকদের হুমকি দিয়ে বলেন, ‘এদের গুলি করা হয়েছে, মরেনি; এদের ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলুন।’ পরে তাকে জোরপূর্বক হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং কোনো চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র দেওয়া হয়নি।
বাসায় ফিরে হুমকি
হাসপাতাল থেকে বের হয়ে বাসায় ফিরলে আওয়ামী লীগের লোকজন এসে বলেন, ‘তুমি গুলি খেয়েছ, এই এলাকায় থাকতে পারবে না।’ তবে এলাকার একজন নির্দলীয় ব্যক্তি তাকে ভরসা দেন। পরে নিজ খরচে ফরাজী হাসপাতালে চিকিৎসা নেন রুহুল আমীন।
আসামিদের বিচার দাবি
ফেসবুক ও ইউটিউবের মাধ্যমে জানতে পারেন যে বিজিবির রেদোয়ান ও রাফাত এবং পুলিশের রাশেদ ও ওসি মশিউর গুলি করেছেন। তিনি আসামিদের বিচার দাবি করেন। মামলায় আসামি লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম, মো. রাফাত-বিন-আলম মুন, মো. রাশেদুল ইসলাম ও মো. মশিউর রহমানের মধ্যে রেদোয়ানুল ও রাফাত সাবজেলে আছেন এবং আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। রাশেদুল ও মশিউর পলাতক।



