সুন্দরবনে ছয় জেলে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি দস্যুদের
সুন্দরবনে ছয় জেলে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি

সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় মাছ ও কাঁকড়া শিকার শেষে ফেরার পথে ছয় জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যুরা। অপহৃত ব্যক্তিদের মুক্তির জন্য মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁদের স্বজনেরা। এ ঘটনায় দস্যুদের হামলায় আহত হয়েছেন এক জেলে। তিনি শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

অপহরণের বিবরণ

জেলেদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত রোববার রাত ১১টার দিকে সুন্দরবনের মালঞ্চ নদের চালতেবেড়ে খাল ও সুবদে খাল এলাকায় অবস্থানরত পাঁচটি মাছ ধরার নৌকা থেকে ছয় জেলেকে তুলে নিয়ে যায় একদল বনদস্যু। দস্যুরা নিজেদের ‘নানাভাই ওরফে ডন বাহিনী’–এর সদস্য বলে পরিচয় দেয়।

অপহৃত ব্যক্তিরা হলেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ কদমতলা গ্রামের ইয়াসিন খাঁ (৩২) ও তাঁর ভাই আলমগীর খাঁ (৩৮), হরিনগর গ্রামের আলামিন মোল্লা (৩৫), শাহজাহান গাজী (৪৮), কামরুল গাজী (৪৪) এবং খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম (৪৮)।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মুক্তিপণের দাবি

স্বজনদের দাবি, অপহরণের পর দস্যুরা প্রথমে মাথাপিছু ৩০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করে। পরে অপহৃত ব্যক্তিদের একজনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মোট দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে অপহৃত ব্যক্তিদের হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।

আহত জেলে

অপহরণের সময় শ্যামনগরের দক্ষিণ কদমতলা গ্রামের ইসমাইল খাঁ (৩৫) দস্যুদের হামলায় আহত হন। স্বজনদের ভাষ্য, অপহরণে বাধা দিতে গেলে দস্যুরা নৌকার বৈঠা দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা তাঁর মাথায় সাতটি সেলাই দিয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইসমাইল খাঁ বলেন, সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে ফেরার পথে বনদস্যুরা তাঁদের নৌকায় হামলা চালিয়ে তাঁর দুই ভাইকে অপহরণ করে। বাধা দিতে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পাস নিয়ে বনাঞ্চলে প্রবেশ

স্বজনেরা জানান, অপহৃত ব্যক্তিরা গত ১৬ মে সুন্দরবনের কদমতলা স্টেশন থেকে বৈধ পাস নিয়ে মাছ ও কাঁকড়া আহরণের জন্য বনাঞ্চলে প্রবেশ করেছিলেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ৩১ মে রাতের মধ্যে তাঁদের ফিরে আসার কথা ছিল।

সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা স্টেশনের কর্মকর্তা মনিরুল করিম বলেন, অপহরণের বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তবে নাম জানার পর তিনি নিশ্চিত হন, অপহৃত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন তাঁর স্টেশন থেকে পাস নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিলেন।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বনদস্যুর সহযোগী আটক

এদিকে সুন্দরবনের বনদস্যু ‘নানাভাই’ ওরফে ‘ডন’ বাহিনীর সহযোগী সন্দেহে নওয়াব আলী গাজী (৫০) নামের একজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় লোকজন। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের হরিনগর বাজার এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

নওয়াব আলী দক্ষিণ কদমতলা গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় জেলে ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বনদস্যু নানাভাই ওরফে ডন বাহিনীর সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছেন এবং নিয়মিত খাদ্যসামগ্রীসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাতে হরিনগর বাজার থেকে চাল, ডাল, লবণ, শ্যাম্পুসহ বিভিন্ন সামগ্রী কেনার পর সেগুলো নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি বনদস্যুদের সহযোগিতা করার কথা স্বীকার করেন। তাঁর সঙ্গে থাকা একটি থলে তল্লাশি করে চালের ভেতর থেকে চার বোতল বিষ এবং বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।

খবর পেয়ে শ্যামনগর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। ওসি খালেদুর রহমান বলেন, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।