পশ্চিমবঙ্গে ভোটের আবহে রাজনৈতিক সহিংসতার নতুন অধ্যায়
পশ্চিমবঙ্গে ভোটের পরিবেশ তৈরি হওয়ার সাথে সাথেই আবারও সামনে চলে এসেছে রাজনৈতিক সহিংসতার পুরনো সেই চিত্র। দক্ষিণ ২৪ পরগনার পবিত্র তীর্থক্ষেত্র গঙ্গাসাগরে বুধবার সকালে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি চালিয়ে বিজেপি নেতা ত্রিলোকেশ ঢালিকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে তীব্র অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শান্ত এই জনপদে নতুন করে খুনের রাজনীতির আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, যা রাজ্য জুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিজেপির দাবি: পরিকল্পিত সন্ত্রাসের অংশ
বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি উঠেছে যে, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং বিরোধীদের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করার একটি পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কার্যকলাপ। স্থানীয় বিজেপি নেতা অরুণাভ দাস সরাসরি অভিযোগ করেন, সাগরের তৃণমূল বিধায়ক বঙ্কিম হাজরার দুর্নীতির মুখোশ খুলে দেওয়ার কারণেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, "শান্ত সাগরে খুনের রাজনীতি শুরু করলো তৃণমূল। বিধায়কের জামাই স্বপন প্রধান কীভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি বানিয়েছেন, সাধারণ মানুষ তার জবাব চাইছেন। আগে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হতো, এখন সরাসরি খুনের চেষ্টা করা হচ্ছে।"
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হওয়ার ফল
এলাকার বিজেপি কর্মীদের মতে, সাগর মেলাকে কেন্দ্র করে হওয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন জনপ্রিয় নেতা ত্রিলোকেশ বাবু। সে কারণেই তাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
রাজনৈতিক সহিংসতার দীর্ঘ ইতিহাস
বিজেপির পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও দক্ষিণ ২৪ পরগনাসহ বিভিন্ন জেলায় গত কয়েক বছরে তাদের শতাধিক কর্মী রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। বিরোধীদের দাবি অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় দুষ্কৃতীদের সাহস বাড়ছে, যা রাজ্য জুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে ভোটের আগমুহূর্তে। স্থানীয় বাসিন্দারা শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা চলছে।



