পটুয়াখালীতে সালিশে কথা বলায় চাচাতো ভাইয়ের হাতে খুন এক ব্যক্তি
পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলায় এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সালিশে বিপক্ষে কথা বলায় শহিদুল ইসলাম মোল্লা (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার চাচাতো ভাই দুলাল মোল্লার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুলালকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনার বিবরণ
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাতে উপজেলার রতনদী তালতলী ইউনিয়নের কাচারিকান্দা গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নিহত শহিদুল ইসলাম মোল্লা কাচারিকান্দা গ্রামের মোতাহার মোল্লার ছেলে। অন্যদিকে, গ্রেপ্তারকৃত দুলাল মোল্লা একই এলাকার কাঞ্চন মোল্লার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত দুলাল দীর্ঘদিন ধরে তার বৃদ্ধ বাবা কাঞ্চন মোল্লা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন। এসব ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে কাঞ্চন মোল্লা গতকাল রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান দেওয়ানের কাছে অভিযোগ করেন। এ সময় কাঞ্চনের সঙ্গে ছিলেন তার ভাইয়ের ছেলে শহিদুল ইসলাম। পরে দুলালকে সেখানে ডেকে পাঠানো হয়।
সালিশের উত্তেজনা ও হত্যাকাণ্ড
সালিশে চাচা কাঞ্চনের পক্ষে কথা বলায় শহিদুলের ওপর ক্ষিপ্ত হন দুলাল। ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান দেওয়ান বলেন, কাঞ্চন মোল্লার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুলালকে ডেকে পাঠানো হয়। তবে দুলাল অভিযোগ অস্বীকার করে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি সবাইকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন এবং পরে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বসার সিদ্ধান্ত নেন।
এরপর মধ্যরাতে শহিদুলকে কুপিয়ে হত্যার খবর আসে। শহিদুলের ছোট ভাই রফিক মোল্লা (৪২) বলেন, দুলাল মোল্লা তাদের নিয়মিত খুন-জখমের হুমকি দিতেন। এ বিষয়ে অভিযোগ জানাতে গেলে গতকাল রাতে দুলাল ধারালো অস্ত্র দিয়ে শহিদুলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। পরে তাকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আইনী পদক্ষেপ ও পুলিশের বক্তব্য
রফিক মোল্লা আরও বলেন, এ ঘটনায় তাদের বাবা মোতাহার মোল্লা গলাচিপা থানায় দুলাল মোল্লার নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে গলাচিপা থানার ওসি জিল্লুর রহমান বলেন, দুলাল মোল্লাকে আজ আদালতে পাঠানো হবে। পুলিশের তদন্ত চলছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
এই ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে এবং পরিবারগুলোর মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করেছে। কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছে।



