টাঙ্গাইলে পুলিশ এসআই সেজে তদবির করতে এসে গ্রেফতার ৩০ বছর বয়সী যুবক
পুলিশ এসআই সেজে তদবির করতে এসে গ্রেফতার টাঙ্গাইলে

টাঙ্গাইলে পুলিশ কর্মকর্তার ভুয়া পরিচয়ে তদবির চেষ্টা: গ্রেফতার ৩০ বছর বয়সী যুবক

টাঙ্গাইলের মধুপুর থানায় পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) সেজে তদবির করতে এসে মো. মিজানুর রহমান (৩০) নামের এক ব্যক্তি গ্রেফতার হয়েছেন। এই ঘটনাটি স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) দুপুরে মধুপুর থানায় আয়োজিত একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রকাশ করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তির পরিচয় ও ঘটনার বিবরণ

গ্রেফতার হওয়া মিজানুর রহমানের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বাগভান্ডার গ্রামে। তার পিতার নাম গোলাম মোস্তফা। মধুপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মধুপুর থানায় এসে মিজানুর নিজেকে পুলিশের এসআই হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি দাবি করেন যে তিনি ২৮তম ব্যাচের একজন এসআই এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এলআইসি শাখায় কর্মরত আছেন।

এই ভুয়া পরিচয়ের মাধ্যমে তিনি মধুপুর পৌর শহরের মাস্টারপাড়া এলাকার একটি জমিসংক্রান্ত মামলায় এক পক্ষের হয়ে ১৭ হাজার টাকার বিনিময়ে তদবির করতে আসেন। পুলিশের বড় কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার পরিচয় ও উঠাবসা থাকার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কীভাবে ধরা পড়লেন মিজানুর?

থানার এসআই সেলিম তার কথাবার্তা ও আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় দ্রুত বিষয়টি ওসি মো. জাফর ইকবালকে জানান। পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে তার পরিচয়ে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। একপর্যায়ে মিজানুর রহমান স্বীকার করেন যে তিনি পুলিশের কেউ নন এবং ভুয়া পরিচয়ে তদবির করতে এসেছিলেন। পুলিশ আরও জানায়, তিনি কন্ট্রাক্টের ভিত্তিতে ওই জমি মামলায় একটি পক্ষের হয়ে কাজ করতে এসে এই প্রতারণার চেষ্টা করেন।

গ্রেফতারের সময় পুলিশ তার কাছ থেকে পুলিশ লেখা মোটরসাইকেল, পুলিশের ব্যবহৃত ট্রাকস্যুটসহ একাধিক জিনিসপত্র জব্দ করে। তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং বিকালের মধ্যে আদালতে সোপর্দ করার কথা জানানো হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অতিরিক্ত অভিযোগ ও আইনগত ব্যবস্থা

প্রেস ব্রিফিংয়ে এএসপি আরিফুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন যে টাঙ্গাইলের অপর একটি থানায় অনুরূপ কর্মকাণ্ডের ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। মিজানুরের বিরুদ্ধে পুলিশের পরিচয় দিয়ে নারী পুলিশসহ একাধিক নারীকে বিয়ে করার অভিযোগও রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মকর্তার ভুয়া পরিচয় দেওয়ার অপরাধসহ প্রতারণার দায়ে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংকালে এএসপি আরিফুল ইসলামের সঙ্গে মধুপুর থানার ওসি ফজলুল হক ও এসআই সেলিম উপস্থিত ছিলেন। এই ঘটনা পুলিশ বিভাগের সতর্কতা ও জালিয়াতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন।