জামিনে বের হওয়া সন্ত্রাসীদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নিচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জামিনে বের হওয়া সন্ত্রাসীদের বিষয়ে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, কারাগার থেকে জামিনে বের হওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং কোনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটলে তা তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা হবে।

সোমবার (৪ মে) দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির প্রথম সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

জামিনে মুক্ত সন্ত্রাসীদের পুনরায় অপরাধ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্টের পর অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ও দাগী আসামি আদালতের মাধ্যমে জামিনে মুক্ত হয়েছেন। জামিন দেওয়া সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার। তবে তারা যদি পুনরায় অপরাধে জড়ায়, তাহলে অভিযোগ ও মামলার ভিত্তিতে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি বলেন, কেউ শীর্ষ সন্ত্রাসী হোক বা সাধারণ ব্যক্তি— হত্যাকাণ্ড মানেই অপরাধ। মামলা হলে তদন্ত হবে এবং আইনের আওতায় আনা হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনর্গঠন

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের একটি খারাপ অবস্থা থেকে প্রশাসনকে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে।

বিএনপি নেতার গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে কুমিল্লায় একটি থানা কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং প্রশাসন আইন অনুযায়ী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের বদলি ও অবসর

পুলিশ কর্মকর্তাদের বদলি ও বাধ্যতামূলক অবসর নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও অবসর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রম। এসব সিদ্ধান্ত আইনানুগ প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে নতুন পদও সৃষ্টি করা যায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের বিষয়ে তিনি জানান, অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব কমিটি কাজ করে এবং বিধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা

রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক পাচার প্রতিরোধ, ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত প্রায় ১২ থেকে ১৪ লাখ নাগরিক কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়া এলাকায় অবস্থান করছে। সেখানে যৌথ বাহিনীর সমন্বিত অপারেশন, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা জোরদারে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আজকের সভায় কোনও আলোচনা হয়নি।

মাদক নিয়ন্ত্রণ ও জঙ্গিবাদ

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরে সিন্ডিকেট থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকার মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে। ১ মে থেকে সারা দেশে বিশেষ অভিযান চলছে। ব্যবহারকারী নয়, বড় মাদক কারবারি ও চোরাচালানকারীদের ধরতেই মূল জোর দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ, র‍্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

জঙ্গিবাদ নিয়ে সরকারের ভিন্নমত আছে কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অবস্থানই চূড়ান্তভাবে বিবেচ্য।

পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তন

পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাহিনীর আবেদনের প্রেক্ষিতে নতুন পোশাক নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ঐতিহ্য বজায় রেখে গ্রহণযোগ্য একটি পোশাক নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদন ও প্রস্তুতি শেষে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।

বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, সদ্য সমাপ্ত সংসদের প্রথম অধিবেশন ছিল দেশের ইতিহাসে অন্যতম প্রাণবন্ত অধিবেশন। ১৭ বছর পর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সংসদের অধিবেশন সক্রিয় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং মতবিরোধ গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ।