পুলিশ সদর দফতরের একটি সতর্কবার্তা প্রকাশের পর বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতা পুনরুজ্জীবিত হওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সুপ্ত বলে মনে করা জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি পুনরায় সংগঠিত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
কেন ফিরছে জঙ্গিরা?
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা, মানবাধিকার কর্মী এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি কখনোই পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয় না। বরং তারা কৌশলগত নীরবতা পালন করে, যা সুযোগ বুঝে পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রতিষ্ঠানগত দুর্বলতা এবং সামাজিক ঝুঁকিগুলি কাজে লাগিয়ে তারা পুনরায় সক্রিয় হয়।
আঞ্চলিক যোগসূত্র
লস্কর-ই-তৈয়বা (এলইটি) ও জামাত-উল-মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) মতো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি আগেও সীমান্ত পেরিয়ে নেটওয়ার্ক গড়েছে। সম্প্রতি পাকিস্তানভিত্তিক তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে বাংলাদেশের কিছু ব্যক্তির যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। চট্টগ্রামের একটি বিমানবাহিনী ঘাঁটি থেকে নিখোঁজ ওয়ারেন্ট অফিসার টিটিপি ক্যাম্পে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে, যা বাহিনীতে জঙ্গি অনুপ্রবেশের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
কারাগার থেকে পলায়ন ও রাজনৈতিক পরিবর্তন
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি প্রিজন থেকে জঙ্গিরা পালিয়ে যায়। পুলিশ সদর দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৩৩ জন পলাতক আসামি এখনো ধরা পড়েনি। কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, শীর্ষ পর্যায় থেকে জঙ্গিবাদ নেই বলে বারবার বলা হচ্ছে, যা মাঠপর্যায়ে কাজ করা কঠিন করে তুলেছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পাকিস্তানে ভিসা সহজ হওয়ায় সীমান্ত পারাপার বেড়েছে। এ ছাড়া আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসনের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বাংলাদেশ সফর নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. মো. তাওহীদুল হক বলেছেন, এটি কেবল একটি বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার বিষয় নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন বলেছেন, জঙ্গিরা হঠাৎ করে আসেনি; তারা দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে বিদ্যমান। কেরানীগঞ্জের মাদ্রাসায় সাম্প্রতিক বিস্ফোরণও জঙ্গি তৎপরতার ইঙ্গিত দেয়।
অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেছেন, পুলিশ সব সময় সতর্ক রয়েছে। সিটিটিসি ও অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) জঙ্গি তৎপরতা নজরদারি করছে এবং জামিনে মুক্তি পাওয়া সন্দেহভাজনদের পুনরায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।



