কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী (৩৫) হত্যায় জড়িত চার ছিনতাইকারী আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেফতার আরেক আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকালে গ্রেফতার পাঁচ জনকে কুমিল্লা আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর দক্ষিণ থানার উপপরিদর্শক টিটু কুমার নাথ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। একইসঙ্গে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের আবেদনও করা হয়।
আদালতের রায়
আদালতের পরিদর্শক মামুনুর রশীদ বলেন, ‘একজনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বাকি চার জন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।’ গ্রেফতারকৃতরা হলো- কুমিল্লা সদরের আমড়াতলী এলাকার ইমরান হোসেন হৃদয় (৩৭), মোহাম্মদ সোহাগ (৩০), ইসমাইল হোসেন জনি (২৫), মোহাম্মদ সুজন (৩২) ও রাহাতুল রহমান জুয়েল (২৭)। তাদের মধ্যে চার জন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত এবং অন্যজন সিএনজি অটোরিকশাচালক। জবানবন্দি দেওয়া আসামিরা হলো- মোহাম্মদ সোহাগ, ইমরান হোসেন হৃদয়, মোহাম্মদ সুজন ও রাহাতুল রহমান জুয়েল। অপর আসামি ইসমাইল হোসেন জনিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
ছিনতাইকারী চক্রের তথ্য
র্যাব জানায়, তারা একটি পেশাদার ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য এবং আগে থেকেই রেলওয়ে ডাকাতি মামলার আসামি। যাত্রী সেজে ফাঁদ পেতে তারা বুলেট বৈরাগীকে হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করে। তাদের স্বীকারোক্তির বরাতে র্যাব জানায়, গত শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লায় ফেরার পথে বুলেট বৈরাগী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন। এতে আগে থেকেই যাত্রী সেজে অবস্থান করেছিল ছিনতাইকারীরা। তারা ভয়ভীতি দেখিয়ে তার মোবাইল ফোন, ব্যাগ, ক্যামেরা ও জুতা ছিনিয়ে নেয় এবং চলন্ত সিএনজি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।
লাশ উদ্ধার ও গ্রেফতার
পরদিন শনিবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি হাড়াতলী এলাকায় আইরিশ হিল হোটেলের পাশ থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। তার মাথার পেছনে আঘাত ও মুখমণ্ডলে রক্তাক্ত চিহ্ন ছিল। পরে রবিবার কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রথমে কুমিল্লা রেলস্টেশন এলাকা থেকে সোহাগকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিবিরবাজার এলাকা থেকে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়া বুড়িচং থানার এরশাদ ডিগ্রি কলেজের সামনে থেকে ব্যবহৃত সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ ও চালককে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ছিনতাই করা মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে র্যাব। তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও জানায় র্যাব।
নিহতের পরিচয়
নিহত বুলেট বৈরাগী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুশীল বৈরাগীর ছেলে। তিনি ৪১তম বিসিএসের নন-ক্যাডার হিসেবে কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট বিভাগে যোগ দেন এবং কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি তিনি চট্টগ্রামে ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বাবা-মা, স্ত্রী ও এক বছর বয়সী সন্তানকে নিয়ে কুমিল্লা নগরের রাজগঞ্জ পানপট্টি এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি ছিলেন তার মা-বাবার একমাত্র সন্তান। এ ঘটনায় শনিবার রাতে নিহতের মা নীলিমা বৈরাগী কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলা পাঁচ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।



