দুর্যোগের আগে মানুষের কাছে নগদ অর্থসহায়তা পৌঁছে দিতে পারলে জানমালের সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান। সোমবার রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে আয়োজিত এক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
কর্মশালার আয়োজন ও উদ্দেশ্য
সেভ দ্য চিলড্রেন এবং ইউরোপীয় সিভিল প্রটেকশন অ্যান্ড হিউম্যানিটারিয়ান এইড অপারেশনসের (ইকো) উদ্যোগে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রাম ও বান্দরবান জেলায় ভূমিধসের ঝুঁকি কমাতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ওপর আলোকপাত করা হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, চসিক ইতিমধ্যে এই আগাম কর্মপরিকল্পনাকে তাদের নিজস্ব দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অবিচ্ছেদ্য অংশ করে নিয়েছে। তিনি এ বছর এই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি আশা করেন, এর প্রায়োগিক দিকগুলো ভবিষ্যতে ভূমিধসের জাতীয় প্রটোকলে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালকের মতামত
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মোমেনুল ইসলাম বলেন, আগাম পূর্বাভাসকে স্থানীয় কর্মপরিকল্পনার কেন্দ্রে রাখতে হবে। এর মাধ্যমেই সরকার ‘সবার জন্য আগাম সতর্কতা ২০২৭’ লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারবে। এটি স্থানীয় জনগণের কাছে নির্ভুল তথ্য পৌঁছানো আরও সহজ করবে।
মূল আলোচনা ও অংশগ্রহণ
কর্মশালায় আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা আঞ্চলিক সমন্বিত বহু-বিপদ আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা (রাইমস), বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশিকা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন এবং সমাজ উন্নয়ন সংস্থা ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা) মূল আলোচনা উপস্থাপন করে। স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে তৈরি এই পরিকল্পনাগুলো কীভাবে সরাসরি স্থানীয় সমস্যা সমাধানে কাজ করছে, তা এ আলোচনায় উঠে আসে। জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থানীয় বাস্তবতাকে বিবেচনায় রেখে এই পরিকল্পনাগুলো তৈরি করা হয়েছে বলে জানান আলোচকেরা।
ইতিবাচক প্রভাব ও সফল মডেল
বক্তারা জানান, গত বর্ষা মৌসুমে এই পরিকল্পনার প্রয়োগের ফলে মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আগাম অর্থসহায়তার মাধ্যমে মানুষের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত হয়েছে। এটি স্থানীয় পর্যায়ের জটিল সমস্যা সমাধানে একটি সফল মডেল হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
অনুষ্ঠানের সভাপতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক নিতাই দে সরকার বলেন, স্থানীয় পর্যায়ের এই অভিজ্ঞতাগুলো ‘ভূমিধসের জাতীয় আগাম কর্মপরিকল্পনা প্রটোকল’ তৈরির জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে। এই কর্মশালা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, কারিগরি বিশেষজ্ঞ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।



