সিলেটে মাদক ব্যবসায়ীর ছুরিকাঘাতে নিহত র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব-৯) কনস্টেবল ইমন আচার্যের (২৮) লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষ হয়।
মরদেহ হস্তান্তর
সিলেট মহানগরের কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে দুপুর ১২টার দিকে ইমনের মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্বজনেরা মরদেহ নিয়ে তাঁর গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পশ্চিম ধলই গ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। সেখানেই তাঁর শেষকৃত্য হবে।
ঘটনার বিবরণ
গতকাল শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নগরের কোতোয়ালি মডেল থানার পাশে আসাদুল আলম নামের একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে ইমন আচার্য নিহত হন। আসাদুল নগরের কাজীরবাজার মোগলটুলার বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
পরিবারের অবস্থা
ইমনের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইমন আচার্য বিয়ে করেন। তিনি কিছুদিন আগে বাড়িতে ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে যোগ দিয়েছিলেন। হঠাৎ তাঁর নিহত হওয়ার খবর জেনে নববিবাহিতা স্ত্রী, পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
মামলা ও গ্রেপ্তার
আজ বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে কোতোয়ালি থানার পুলিশ জানায়, ইমনের ছুরিকাঘাতে নিহত হওয়ার ঘটনায় তাঁর ভাই সুজিত আচার্য শনিবার সকালে মাদক ব্যবসায়ী আসাদুল আলমকে আসামি করে থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় আসাদুলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের বর্ণনা
পুলিশ জানায়, শুক্রবার দুপুরে সিলেট নগরের কিনব্রিজ এলাকায় কয়েকজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মাদক সেবন ও বিক্রি করছিলেন। স্থানীয়ভাবে ছিনতাইকারী হিসেবেও তাঁরা পরিচিত। পুলিশের একটি টহল দল তাঁদের দেখে ধাওয়া দেয়। এ সময় তাঁরা দৌড় দেন। মাদক ব্যবসায়ী আসাদুল আলম তোপখানা এলাকার রাস্তার দিকে দৌড়ে পালাচ্ছিলেন। তখন রাস্তায় পায়চারি করছিলে ইমন আচার্য। এ সময় তিনি ওই মাদক ব্যবসায়ীকে জাপটে ধরেন। সঙ্গে সঙ্গে আসাদুল ইমনের বুকের বাঁ পাশে ছুরিকাঘাত করেন। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় ইমনকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে বেলা দেড়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
আসাদুলের জিম্মি করার চেষ্টা
পুলিশ আরও জানায়, ইমনকে ছুরিকাঘাত করে আসাদুল পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ সদস্যরা তাঁর পিছু নেন। এ সময় তিনি তোপখানার একটি বাসায় ঢুকে এক শিশুর গলায় চাকু ধরে ওই পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ সদস্যরা কৌশলে তাঁকে আটক করেন।
বৃহত্তর অভিযান
এদিকে ইমন নিহত হওয়ার ঘটনার পরপরই পুলিশ মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট ২৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে মহানগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। সূত্রটি জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে নিয়মিত মামলার আসামি, ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, জুয়াড়ি, চোরাকারবারি, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরা রয়েছেন।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজুরুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে শুক্রবার ৬৭ জন ও শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ১৬৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ছাড়া ট্রাফিক বিভাগ অভিযান চালিয়ে অন্তত ১০০টি যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে।



