চট্টগ্রামের পটিয়ায় বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার দুপুর পৌনে একটার দিকে উপজেলার আনসার ক্যাম্পের সামনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুই কিশোর মোটরসাইকেল আরোহী ছিল।
নিহতদের পরিচয়
নিহতরা হলেন—উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের শেখ মোহাম্মদ পাড়ার আখতার হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন (১৫) ও একই এলাকার জাহেদুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ তাসনিম (১৫)। এর মধ্যে শাহাদাত উপজেলার চক্রশালা কৃষি উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং তাসনিম আব্দুস সোবাহান রাহাত আলী উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
আহত ব্যক্তি
একই ঘটনায় তানভির হোসেন (১৮) নামের এক তরুণ আহত হয়েছেন। তিনি একই এলাকার মোহাম্মদ আবদুলের ছেলে। তিনিও মোটরসাইকেলটিতে ছিলেন। তাঁকে আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি মোটরসাইকেলে করে ওই দুই কিশোর ও এক তরুণ স্থানীয় একটি কোরবানির পশুর হাটে গরু দেখতে যাচ্ছিলেন। মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিল শাহাদাত হোসেন। হাটে যাওয়ার পথে আনসার ক্যাম্প এলাকায় বিপরীত দিক থেকে একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির সংঘর্ষ হয়। এ সময় তিনজনই মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়েন। ঘটনাস্থলেই শাহাদাতের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় অপর দুজনকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাসনিমকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও কচুয়াই ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মোহাম্মদ ইসহাক বলেন, দুর্ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলেই ছিলেন। বাসটির চালক দুর্ঘটনার পর বাস নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে তিনি আরেকটি মোটরসাইকেলে করে ধাওয়া দিয়ে বাসচালককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।
চিকিৎসকের মতামত
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক সুচিতা দেব বলেন, দুর্ঘটনায় হতাহত তিনজনই মাথায় আঘাত পেয়েছেন। আহত একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের পদক্ষেপ
পটিয়া হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা বাসচালককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। আমরা চালককে হেফাজতে নিয়েছি। নিহত ব্যক্তির লাশ পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’



