মানিকগঞ্জের শিবালয়ে সালিস বৈঠকে মারধরের শিকার নারীর আত্মহত্যা
মানিকগঞ্জের শিবালয়ে এক নারীকে সালিস বৈঠকে প্রকাশ্যে মারধর করার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ রোববার বিকেলে শিবালয় থানা প্রাঙ্গণে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জের আদালত পরিদর্শক আবুল খায়ের মিয়া।
ঘটনার বিবরণ
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় শিবালয়ে এক নারীর (২৫) বাবার বাড়িতে সালিস বৈঠক বসানো হয়। অভিযোগ, ওই নারীর সঙ্গে এলাকার এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। বৈঠকে আজিজ খান, নাঈম হোসেন (২১), শুক্কুর আলী (৪৫) সহ বেশ কয়েকজন গ্রাম্য মাতবর উপস্থিত ছিলেন। সালিসে নারী ও যুবককে দোষী সাব্যস্ত করে প্রকাশ্যে মারধর করা হয় এবং যুবককে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরদিন শনিবার বিকেলে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে এলাকার বখাটে যুবকেরা ওই নারীকে কটূক্তি করে। সন্ধ্যা সাতটার দিকে তার ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা। পুলিশ রাত ১০টার দিকে লাশ উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায় ময়নাতদন্তের জন্য।
মামলা ও গ্রেপ্তার
আজ রোববার দুপুরে ওই নারীর বাবা বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে শিবালয় থানায় মামলা করেন। মামলার এজাহার, ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নারীটি স্থানীয় একটি কারখানায় কাজ করতেন।
ওই নারীর মা বলেন, ‘সালিসের নামে আমার মেয়েকে সবার সামনে মারধর করা হয়েছে। অপমান সহ্য করতে না পেরে আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।’
শিবালয় থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন চক্রবর্তী, যিনি মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা, জানান, তিন আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন আবদুল আজিজ খান, নাঈম হোসেন ও শুক্কুর আলী।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত বিচার দাবি করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত জোরদার করা হয়েছে এবং অন্যান্য আসামিদের শনাক্তকরণের কাজ চলছে। মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনও ঘটনাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।



