সংসদে তুমুল বিতর্ক: ফেসবুকে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম নিয়ে কার্টুন শেয়ার করে গ্রেপ্তার নিয়ে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর ক্ষোভ
ফেসবুকে চিফ হুইপ নিয়ে কার্টুন শেয়ার করে গ্রেপ্তার নিয়ে সংসদে বিতর্ক

সংসদে তীব্র বিতর্ক: ফেসবুকে চিফ হুইপ নিয়ে কার্টুন শেয়ার করে গ্রেপ্তার নিয়ে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর ক্ষোভ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চিফ হুইপ নূরুল ইসলামকে নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তারের ঘটনায় জাতীয় সংসদে রোববার সন্ধ্যায় তুমুল বিতর্ক সংঘটিত হয়েছে। এনসিপির সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ) এই অনির্ধারিত বিতর্কের সূচনা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ ও ক্ষোভ

পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, 'কার্টুন শেয়ার করার কারণে কাউকে গ্রেপ্তার করার ঘটনা আমরা কল্পনাও করতে পারি না।' তিনি ফেসবুকে চিফ হুইপকে নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার এবং হোয়াটসঅ্যাপে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগে এ এম হাসান নাসিমের গ্রেপ্তারের বিষয়টি সামনে আনেন।

হাসনাত আরও উল্লেখ করেন, 'আমরা হাসিনার আমলে দেখেছি, কটূক্তি করার জন্য গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু একটা নির্বাচনের পরে কার্টুন শেয়ার দেওয়ার কারণে হাসান নাসিমকে গ্রেপ্তার করা হবে, তা আমরা কল্পনাও করতে পারি নাই।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি সাইবার সুরক্ষা আইনের ২৫ ধারা প্রসঙ্গে বলেন, 'যৌন নির্যাতন করা হলে এ ধারায় মামলা করা হবে। কিন্তু হুইপ মহোদয়কে নিয়ে যে মিম শেয়ার করা হয়েছে, সেখানে কোথায় যৌন নির্যাতন করা হয়েছে? এখানে একটা মিম শেয়ার দেওয়া হয়েছে।'

প্রশ্নোত্তর টেবিল নিয়েও বিতর্ক

হাসনাত আবদুল্লাহ সংসদে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, 'গত দুই সপ্তাহে সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর টেবিলে দিয়ে দেওয়া হয়। যার ফলে আমরা মন্ত্রীদের প্রশ্ন, সম্পূরক প্রশ্ন করতে পারি না। এতে সংসদ সদস্যরা অধিকারবঞ্চিত হচ্ছেন।'

তিনি আরও যোগ করেন, 'কার্যকর গণতন্ত্র ও সংসদের জন্য আমরা কোথায় কথা বলব? আমরা যদি মন্ত্রীদের জবাবদিহির আওতায় না আনতে পারি, আমাদের কথা বলার জায়গা একেবারেই সীমিত।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিফ হুইপ নূরুল ইসলামের জবাব

হাসনাতের বক্তব্যের জবাবে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, 'কার্টুনের কারণে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়ে থাকলে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য আমি অনুরোধ জানাচ্ছেন।' তিনি স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এই অনুরোধ জানান।

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, 'কুৎসা রটনা, বিভ্রান্তি ছড়ানোর কারণে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গত ডিসেম্বরে তিনটি জিডি করা হয়। যদি গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি ওই সব কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি হয়ে থাকেন, তাহলে এটা সরকারের গভীরভাবে খতিয়ে দেখা উচিত।'

চিফ হুইপ বলেন, তিনি সাইবার তথ্য সংগ্রহ করে দেখেছেন যে হাসান নামে একজন জনশক্তি, মানিলন্ডারিংসহ অনেক কাজে জড়িত। তিনি উল্লেখ করেন, 'এই ব্যক্তি যদি এসব সাইবারের কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি হন, তাহলে এটা সরকারের গভীরভাবে খতিয়ে দেখা উচিত।'

প্রশ্নোত্তর টেবিলের কারণ ব্যাখ্যা

প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপনের বিষয়ে চিফ হুইপ বলেন, 'বিরোধীদলীয় নেতা রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ৫০ ঘণ্টা আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১২ ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে। ৩০ তারিখের মধ্যে সংসদ শেষ করতে চাইলে সময় কাভার করা যায় না। সে কারণেই প্রশ্নোত্তরের টেবিল করা হয়।'

তিনি আরও বলেন, 'যদি সদস্যরা চান যে রাত ১০টা পর্যন্ত অধিবেশন চলুক, তাহলে তাঁরা প্রশ্নোত্তর টেবিল করতে চান না। আমরা জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে আন্তরিক।'

ফেক আইডি ও অপপ্রচার নিয়ে সতর্কতা

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম ফেক আইডি ও অপপ্রচারের বিষয়েও সতর্ক করেন। তিনি বলেন, 'ফেক আইডিগুলো থেকে প্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী, কন্যার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়। সরকারের স্বার্থে, বিরোধী দলের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে এগুলো গভীরভাবে খতিয়ে দেখা দরকার।'

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল হাসনাত আবদুল্লাহকে সংসদে নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দেন। বিতর্কটি সংসদে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন নিয়েও আলোচনার সূত্রপাত করে, যা সংসদ সদস্যদের জবাবদিহি প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলছে বলে উল্লেখ করা হয়।