মাদক বিরোধিতার জেরে রাজধানীতে নির্মম হত্যাকাণ্ড
রাজধানীর শান্তিবাগ এলাকায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দিবাগত রাতের এই হামলায় সেকান্দার আলী (৩২) নামের ওই যুবক গুরুতর আহত হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
সোমবার (৯ মার্চ) রাত প্রায় ১১টার দিকে শান্তিবাগের ভাঙারি গলিতে মামুন ওরফে বুলেট মামুন, তার শালা হান্নানসহ কয়েকজন সেকান্দার আলীর ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রায় ২টার দিকে স্বজনরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিচয় ও পেশা
নিহত সেকান্দার আলীর গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার তিতাস উপজেলার গাজীপুর গ্রামে। তার বাবার নাম আব্দুর রউফ। সেকান্দার স্ত্রী মাহফুজা ও তিন সন্তান নিয়ে রাজধানীর রামপুরা ওলনবাজার এলাকায় বসবাস করতেন এবং অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। শাহজাহানপুরের ভাঙারি গলিতে তার দুটি অটোরিকশা ছিল।
হামলার পেছনের কারণ
নিহতের ভাই আমির আলীর দাবি, হামলাকারীরা এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। এর আগেও সেকান্দার তাদের মাদক কার্যক্রমে বাধা দিয়েছিলেন। সেই বিরোধের জেরে তারা সেকান্দারকে খুঁজছিল এবং সুযোগ পেয়ে তার ওপর হামলা চালায়। স্বজনদের অভিযোগ, মাদক বিরোধিতাই এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ।
পুলিশের তদন্ত ও পদক্ষেপ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করছে শাহজাহানপুর থানা-পুলিশ।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
এই হত্যাকাণ্ডে শান্তিবাগ ও আশেপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মাদক বিরোধিতায় এমন নির্মম হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দ্রুত বিচার দাবি করেছেন। অনেকেই এলাকায় মাদক ব্যবসার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এই ঘটনায় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য বিশেষ তদন্ত চলছে। নিহতের পরিবারকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে বলেও পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।



