হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানি জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানকে আহ্বান
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি জাহাজ চলাচলে ইরানকে আহ্বান

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানি জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানকে আহ্বান

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশমুখী জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত একটি সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই আহ্বান জানানো হয়।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে আলোচনা

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন। পাশাপাশি তারা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল, বিশেষ করে পারস্য উপসাগরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেছেন। উভয় পক্ষই অঞ্চলটির শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে তার দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এই বৈঠকটি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইরানের পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতি

এর আগে, ১ এপ্রিল ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন যে ইরান সরকার হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হওয়ার অপেক্ষায় থাকা ছয়টি বাংলাদেশমুখী জ্বালানিবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচলের অনুমোদন দিয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, "ইরান চায় না বাংলাদেশিরা কোনো দুর্ভোগে পড়ুক এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহণে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হরমুজ প্রণালির চলাচলের পরিসংখ্যান

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ ছিল। এই সময়ে প্রতিদিন মাত্র ৫ থেকে ১১টি জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করতে পেরেছে। অথচ যুদ্ধের আগে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৩০টি জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করত।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও পরিস্থিতির উন্নতি সীমিত রয়ে গেছে। বর্তমানে দৈনিক জাহাজ চলাচল ৭ থেকে ১১টির মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এই হ্রাস বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। পারস্য উপসাগর থেকে বিশ্ববাজারে তেল রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। তাই এই অঞ্চলের অস্থিরতা সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলে।

বাংলাদেশ সরকারের এই আহ্বান দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশলগত উদ্যোগের অংশ। ঢাকা এবং তেহরানের মধ্যে এই আলোচনা দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।