মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন: মানবাধিকার সংস্থার উদ্বেগ
মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন: মানবাধিকার সংস্থার উদ্বেগ

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলোতে শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের ক্রমবর্ধমান ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর ধর্ষণ ও গর্ভধারণের সাম্প্রতিক ঘটনার উল্লেখ করে বলেছে, এটি আবারও প্রমাণ করেছে যে এসব প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাগত সুরক্ষা জরুরি।

উচ্চ আদালতের নির্দেশনার প্রয়োগ

এমজেএফ দেশের সব মাদ্রাসায় যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে, যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য উচ্চ আদালতের নির্দেশনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, 'মাদ্রাসাগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান; উচ্চ আদালতের রায়ের আওতার বাইরে থাকার কোনো কারণ নেই।'

পরিসংখ্যান ও ঘটনা

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ১ হাজার ২৮ জন নারী ও মেয়ে শিশু যৌনসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭৯ জন মেয়ে শিশু। নেত্রকোনার ঘটনায় এফআইআরে অভিযোগ, একজন মাদ্রাসা শিক্ষক অক্টোবর থেকে শিশুটিকে একাধিকবার নির্যাতন করেন। ১৮ এপ্রিল চিকিৎসা পরীক্ষায় উন্নত গর্ভধারণ নিশ্চিত হওয়ার পর ঘটনাটি প্রকাশ পায়। অভিযুক্ত, যিনি অনলাইনে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তাকে র্যাব গ্রেপ্তার করেছে। পটুয়াখালীতে পৃথক ঘটনায় ১০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর নির্যাতনের অভিযোগে এক মাদ্রাসা শিক্ষক কারাগারে আছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইনগত ব্যবস্থা ও দাবি

এমজেএফ উল্লেখ করেছে, ২০২৩ সালে উচ্চ আদালত তার ২০০৯ সালের রায় অনুসরণ করে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়। তবে মাদ্রাসাগুলোতে এর বাস্তবায়ন সীমিত। সংস্থাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর কঠোর প্রয়োগ এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। এটি কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছে, বলেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ে অপরাধীদের প্রভাবের কারণে মাদ্রাসায় যৌন নির্যাতনের ঘটনা প্রায়ই অপ্রকাশিত থেকে যায়।

সরকারের প্রতি আহ্বান

এমজেএফ বলেছে, শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়েরই দায়িত্ব রয়েছে এবং সরকারের প্রতি প্রস্তাবিত যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন দ্রুত পাসের আহ্বান জানিয়েছে, যা সংসদে বিবেচনাধীন।