ঋণ পরিশোধ না করে হজ করলে কি আদায় হবে? ইসলামী বিধান
ঋণ পরিশোধ না করে হজ করলে কি আদায় হবে?

হজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম। তবে ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য হজের বিধান নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে। বিশেষ করে, ঋণ পরিশোধ না করে হজ করলে তা আদায় হবে কি না, এ বিষয়ে ইসলামী পণ্ডিতদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

ঋণ পরিশোধের গুরুত্ব

ইসলামে ঋণ পরিশোধের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা আমানতসমূহ তার প্রাপকদের প্রত্যার্পণ করো।” (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৫৮)। ঋণও এক প্রকার আমানত। হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “মুমিনের জান ঋণের কারণে আটক থাকে, যতক্ষণ না তার ঋণ পরিশোধ করা হয়।” (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)

হজের জন্য ঋণমুক্ত হওয়া কি শর্ত?

হজ ফরজ হওয়ার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে, যেমন সক্ষমতা। সক্ষমতার মধ্যে অর্থনৈতিক সক্ষমতাও অন্তর্ভুক্ত। ফুকাহায়ে কেরামের মতে, হজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ যদি ঋণ করে সংগ্রহ করতে হয়, তবে সেই ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য না থাকলে হজ ফরজ নয়। তবে কারো কাছে যদি ঋণ থাকে এবং সে হজে যেতে চায়, তাহলে বিষয়টি জটিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মতামতের পার্থক্য

এ প্রসঙ্গে চার মাজহাবের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। হানাফি মাজহাবের মতে, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য হজ করা মাকরুহ, তবে হজ করলে তা আদায় হবে এবং ফরজ আদায় হয়ে যাবে। তবে ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব থেকে মুক্তি পাবে না। শাফেয়ি মাজহাবের মতে, ঋণ থাকা অবস্থায় হজ করলে হজ সহীহ হবে, কিন্তু গুনাহ হবে। মালিকি মাজহাবের মতে, ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য থাকলে হজ করা জায়েজ, অন্যথায় নয়। হাম্বলি মাজহাবেও অনুরূপ মত রয়েছে।

সঠিক সিদ্ধান্ত কী?

বেশিরভাগ আলেমের মতামত হলো, ঋণ থাকা অবস্থায় হজ করা থেকে বিরত থাকা উচিত। প্রথমে ঋণ পরিশোধ করে তারপর হজে যাওয়া উত্তম। তবে যদি ঋণদাতা অনুমতি দেয় এবং ঋণ পরিশোধের সময়সীমা থাকে, তাহলে হজ করা যেতে পারে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ