কুমিল্লায় আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড় এসেছে। হত্যাকাণ্ডের পর সিআইডির পরীক্ষায় তনুর পোশাকে তিনজনের শুক্রাণু পাওয়া গিয়েছিল। এবার সিআইডি আরেকজনের রক্তের অস্তিত্ব পেয়েছে। ফলে ডিএনএ পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত তনুর পোশাকে চারজনের নমুনা পাওয়ার তথ্য জানা গেছে।
তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য
রোববার রাতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মো. তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি সিআইডিতে চিঠি দিয়ে তনুর পোশাকে পাওয়া নমুনার বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম। প্রায় এক মাস আগে আমাকে জানানো হয়েছে, তিনজন পুরুষের শুক্রাণু ছাড়াও তনুর পোশাকে আরেকজনের রক্তের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এ নিয়ে সন্দেহভাজনের সংখ্যা চারজনে দাঁড়াল। আমরা মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। সন্দেহভাজনদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
ঘটনার বিবরণ
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি ঝোপের মধ্যে তনুর লাশ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল ও ১২ জুন দুই দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তনুর মৃত্যুর কারণ খুঁজে না পাওয়ার তথ্য জানায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ।
ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল
এ হত্যাকাণ্ডের শেষ ভরসা ছিল ডিএনএ রিপোর্ট। ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল। এ ছাড়া তনুর মায়ের সন্দেহ করা তিনজনকে ২০১৭ সালের ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত সিআইডির একটি দল ঢাকা সেনানিবাসে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। তবে ওই সময়ে তাদের নাম গণমাধ্যমকে জানায়নি সিআইডি। এখন সামনে এলো- তিন পুরুষের শুক্রাণুর পাশাপাশি ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর পোশাকে একজনের রক্ত ছিল।



